বাংলাদেশ ০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ভাতা ও বিমাসহ ব্রাক-এ সিনিয়র মিডওয়াইফ পদে চাকরির সুযোগ Logo উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে সাফল্যের স্বীকৃতি, ইজার সাদেককে স্কুলের শুভেচ্ছা Logo ওমানে গ্যাস বিস্ফোরণে চট্টগ্রামের একই পরিবারের ৪ ভাই নিহত Logo বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Logo পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ে কড়াকড়ি, জারি নতুন বিধিনিষেধ Logo ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেন জেডি ভ্যান্স Logo ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে হতে পারে, জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় Logo এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্য ইসির Logo রাণীশংকৈলে ভুট্টা ক্ষেত থেকে ৪ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার আটক-১

ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে নতুন নীতিমালায় নগরে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কের ওপর হকাররা দোকান বসানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে (ছবি : সংগৃহীত ছবি)

রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকারদের ব্যবসা নগর জীবনে যেমন ভোগান্তি তৈরি করছে, তেমনি নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কে হকারদের দোকান বসার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর, ভ্যাট ও উচ্চ ভাড়া দিয়ে পরিচালিত বৈধ দোকানদারদের তুলনায় কম খরচে ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হলে তা অসম প্রতিযোগিতা ও নতুন সামাজিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

তারা বলছেন, শুধু নিবন্ধন, স্মার্ট কার্ড বা নির্ধারিত ফি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও কর কাঠামোকে সমন্বিতভাবে না ভাবলে এই নীতিমালা কার্যত ফুটপাত ব্যবসাকে আংশিক বৈধতা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় হয়, যা প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্রের পকেটে যাচ্ছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং একটি অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক চক্র তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বৈধ দোকান মালিকরা দোকানভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ বহন করেও ব্যবসা চালাতে গিয়ে সংকটে পড়ছেন। ফুটপাতের কম দামের বিক্রির কারণে তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, হকারদের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে শুধু উচ্ছেদ নয়, বরং স্বচ্ছ নিবন্ধন, নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং কর কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখাও নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের আরেকটি প্রশ্ন হলো—শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা নীতিমালা করলে দেশের অন্যান্য শহরে চলমান একই ধরনের সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বৈষম্য তৈরি হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের স্মার্ট কার্ড, নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ, সময়ভিত্তিক বাজার এবং কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন ঘিরে মাঠপর্যায়ে অনিয়ম ও পুনরায় দখলের শঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হকারদের দখল দেখা গেছে। ফলে ফুটপাত শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ভাতা ও বিমাসহ ব্রাক-এ সিনিয়র মিডওয়াইফ পদে চাকরির সুযোগ

ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে নতুন নীতিমালায় নগরে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক

প্রকাশিত: ০২:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকারদের ব্যবসা নগর জীবনে যেমন ভোগান্তি তৈরি করছে, তেমনি নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কে হকারদের দোকান বসার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর, ভ্যাট ও উচ্চ ভাড়া দিয়ে পরিচালিত বৈধ দোকানদারদের তুলনায় কম খরচে ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হলে তা অসম প্রতিযোগিতা ও নতুন সামাজিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

তারা বলছেন, শুধু নিবন্ধন, স্মার্ট কার্ড বা নির্ধারিত ফি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও কর কাঠামোকে সমন্বিতভাবে না ভাবলে এই নীতিমালা কার্যত ফুটপাত ব্যবসাকে আংশিক বৈধতা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় হয়, যা প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্রের পকেটে যাচ্ছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং একটি অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক চক্র তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বৈধ দোকান মালিকরা দোকানভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ বহন করেও ব্যবসা চালাতে গিয়ে সংকটে পড়ছেন। ফুটপাতের কম দামের বিক্রির কারণে তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, হকারদের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে শুধু উচ্ছেদ নয়, বরং স্বচ্ছ নিবন্ধন, নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং কর কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখাও নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের আরেকটি প্রশ্ন হলো—শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা নীতিমালা করলে দেশের অন্যান্য শহরে চলমান একই ধরনের সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বৈষম্য তৈরি হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের স্মার্ট কার্ড, নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ, সময়ভিত্তিক বাজার এবং কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন ঘিরে মাঠপর্যায়ে অনিয়ম ও পুনরায় দখলের শঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হকারদের দখল দেখা গেছে। ফলে ফুটপাত শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

kalprakash.com/SS