বাংলাদেশ ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ, সংকট মোকাবিলায় রান্নার তেলভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিমান খাত

সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি জুনের মধ্যে বৈশ্বিক জেট ফুয়েল মজুত আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার নির্ধারিত সংকটসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে জেট ফুয়েলের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল, এখন তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১৮১ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুতও প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিমান খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পিরিট এয়ারলাইন্স আর্থিক সংকটে ধসে পড়েছে, আর আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ডেলটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি ডলারের জ্বালানি ব্যয়ের মুখে পড়েছে।

সংকট মোকাবিলায় বিমান খাত এখন বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাসটেইনেবল অ্যাভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ), যা ব্যবহৃত রান্নার তেল, কৃষি বর্জ্য ও কার্বন উপাদান থেকে তৈরি করা হয়। পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানি দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হিসেবে দেখা হলেও সরবরাহ সীমিত থাকায় এখনো ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বছরে অন্তত ২৫ কোটি টন এসএএফ প্রয়োজন হবে। তবে উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য ধীরে ধীরে বিমান সংস্থাগুলোকে এসএএফ এবং ভবিষ্যতে ই-এসএএফ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। তবে এয়ারলাইনসগুলো বলছে, বাজারে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে এই জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। (সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট)

kalprakash.com/SS
জনপ্রিয় সংবাদ

জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ, সংকট মোকাবিলায় রান্নার তেলভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বিমান খাত

প্রকাশিত: ০৩:১৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি জুনের মধ্যে বৈশ্বিক জেট ফুয়েল মজুত আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার নির্ধারিত সংকটসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে জেট ফুয়েলের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল, এখন তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১৮১ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুতও প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিমান খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পিরিট এয়ারলাইন্স আর্থিক সংকটে ধসে পড়েছে, আর আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ডেলটার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি ডলারের জ্বালানি ব্যয়ের মুখে পড়েছে।

সংকট মোকাবিলায় বিমান খাত এখন বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাসটেইনেবল অ্যাভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ), যা ব্যবহৃত রান্নার তেল, কৃষি বর্জ্য ও কার্বন উপাদান থেকে তৈরি করা হয়। পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানি দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হিসেবে দেখা হলেও সরবরাহ সীমিত থাকায় এখনো ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বছরে অন্তত ২৫ কোটি টন এসএএফ প্রয়োজন হবে। তবে উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য ধীরে ধীরে বিমান সংস্থাগুলোকে এসএএফ এবং ভবিষ্যতে ই-এসএএফ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। তবে এয়ারলাইনসগুলো বলছে, বাজারে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে এই জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। (সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট)

kalprakash.com/SS