দেশের অর্থনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতে গতি আনতে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নীতিমালা সংস্কার করে নতুন ‘ভিসা নীতিমালা–২০২৬’ এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণীত এই খসড়ার মাধ্যমে আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী যদি বাংলাদেশের ভারী শিল্প বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অন্তত ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন, তাহলে তিনি এবং তার পরিবার আজীবনের জন্য ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর)’ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা ধারাবাহিক বিনিয়োগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত নবায়নযোগ্য হবে।
নতুন নীতিমালায় অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থানের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে জরিমানা আরোপ করা হবে। প্রথম ১৫ দিন প্রতিদিন ১ হাজার টাকা, পরবর্তী ৯০ দিন ২ হাজার টাকা এবং এরপর প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে স্পন্সর বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকেও অর্থদণ্ডের আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক এবং তাদের তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত এনভিআর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ সুবিধার জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ মার্কিন ডলার। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাবও রয়েছে, যেখানে ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৯০ দিন পর্যন্ত জরিমানা ছাড়াই অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে।
নতুন খসড়ায় ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ই-ভিসা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন ও ইউরোপীয় দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা বহাল থাকবে।
চিকিৎসা পর্যটনকে উৎসাহিত করতে নতুনভাবে ‘মেডিকেল ট্যুরিজম’ ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদেশি রোগীরা তিন মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাবেন এবং রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন সহকারীও ভিসার আওতায় থাকবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই সংস্কার আনা হচ্ছে, যা বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খসড়াটি বর্তমানে ২১টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























