মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনেক অভ্যাসই অনিচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হয়, যার একটি হলো মুখে শিস বা শিশ বাজানো। ইসলামের দৃষ্টিতে এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে “হারাম” বা “গুনাহ” বলা হয়েছে—এমন কোনো সরাসরি দলিল নেই। তবে আলেমদের ব্যাখ্যায় বিষয়টি শালীনতা, অভ্যাস এবং পরিবেশের ওপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে দেখা হয়।
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি কী বলে?
ইসলাম মানুষের নিয়ত ও উদ্দেশ্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। কোনো কাজ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহের উদ্দেশ্যে করা না হয়, তাহলে সাধারণভাবে তার জন্য গুনাহ হয় না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।”
(সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৩১)
এই হাদিসের আলোকে আলেমরা বলেন, এমন কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত যা অসৎ বা অশালীন পরিবেশের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। কিছু ক্ষেত্রে শিস বাজানোকে অপ্রয়োজনীয় বা শালীনতার পরিপন্থী আচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে যদি তা অহেতুক বিনোদন বা অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়।
ফিকহের ব্যাখ্যা
ফিকহ গ্রন্থগুলোতে বাদ্যযন্ত্র, হাততালি বা অনুরূপ কিছু আচরণকে সাধারণত অপছন্দনীয় (মাকরূহ) বলা হয়েছে, বিশেষ করে যখন তা অশ্লীল পরিবেশ বা গুনাহপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুনাহ নয়, বরং প্রেক্ষাপট ও ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল।
অনিচ্ছাকৃত শিস বাজালে কী হবে?
ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী—
- কোনো কাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে হলে গুনাহ হয় না
- আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না
অতএব, মনের অজান্তে বা অভ্যাসবশত মুখ দিয়ে শিস বের হয়ে গেলে এতে গুনাহ হবে না।
আমাদের করণীয়
যদিও এটি সরাসরি গুনাহ নয়, একজন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো—
- শালীন ও ভদ্র আচরণ বজায় রাখা
- অপ্রয়োজনীয় অভ্যাস কমিয়ে আনা
- এমন কাজ থেকে দূরে থাকা যা ভুল ধারণা বা অশোভন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে
সংক্ষেপে
- শিস বাজানো নিজে থেকে সরাসরি হারাম নয়
- অনিচ্ছাকৃত হলে গুনাহও হবে না
- তবে অপ্রয়োজনীয় বা অশালীন পরিবেশে এটি এড়িয়ে চলা উত্তম
ইসলাম সবসময় শালীনতা, সচেতনতা এবং সুন্দর আচরণের প্রতি উৎসাহ দেয়—এটাই মূল শিক্ষা।
kalprakash.com/SS
কাল প্রকাশ ডেস্ক 

























