য়রানিমুক্ত ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, সহায়ক করনীতি ও সহজ ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ তৈরি হলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে, অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় ব্যবসায়ীরা এসব দাবি তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজেট কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক হয়ে উঠেছে। তারা এটিকে সহায়তামূলক করার দাবি জানান এবং করনীতি সংস্কার, করহার সহজীকরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর জোর দেন।
এফবিসিসিআই ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়, যা বর্তমানে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি করপোরেট করহার কমানো, টার্নওভার কর হ্রাস এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, কর ব্যবস্থা সহজ ও হয়রানিমুক্ত হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি ওয়ান-পেজ ডিজিটাল রিটার্ন ও সমন্বিত ট্যাক্সপেয়ার প্রোফাইল চালুর প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, সঠিক ও ন্যায়সংগত করব্যবস্থা দেশের উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অনেক ব্যবসায়ীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এবং ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদানকারীরাই বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওবায়দুর রহমান বলেন, অনেক শিল্প বন্ধ হওয়ার পথে, তাই সরাসরি কর ব্যবস্থা সহজ ও কার্যকর করা জরুরি।
বারভিডা সভাপতি আবদুল হক জানান, ডলার সংকট ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে গাড়ির বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। শুল্ক কমানো হলে বাজারে গতি ফিরবে বলে তিনি মত দেন।
এফবিসিসিআই আরও প্রস্তাব দেয়, স্থানীয় পর্যায়ে পণ্যের সরবরাহে ভ্যাট হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ১–৩ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হলে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা পাবে।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যবসা সহজ হলে অর্থনীতি এগোবে। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে এবং ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
kalprakash.com/SS
বাণিজ্য ডেস্ক 

























