বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও টেকসই করার লক্ষ্যে পিকেএসএফ বাস্তবায়িত রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি) সাড়ে ৭ লাখের বেশি পরিবারের আয় ও জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রকল্পটির আওতায় ৯০টি কৃষিভিত্তিক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সদস্যকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক বাজার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
ইফাদ ও ডানিডার সহঅর্থায়নে ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। আরএমটিপি সেই সফলতার একটি উদাহরণ।
প্রধান অতিথি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, এই প্রকল্প দেখিয়েছে কীভাবে উদ্ভাবন ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, এ সফলতার ধারাবাহিকতায় ইফাদের অর্থায়নে নতুন ‘গ্রিন’ প্রকল্প শিগগিরই শুরু হবে।
ইফাদ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো বলেন, আরএমটিপি প্রমাণ করেছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন ও বাজার ব্যবস্থার সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা প্রকল্প শেষ হলেও টেকসইভাবে চলমান থাকে।
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, আরএমটিপি গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই রূপান্তরের একটি সফল মডেল হিসেবে কাজ করছে এবং এর অর্জনগুলো ভবিষ্যতেও এগিয়ে নেওয়া হবে।
পিকেএসএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি, বাজার সংযোগ, ব্র্যান্ডিং ও দক্ষতা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
প্রকল্প উপস্থাপনায় জানানো হয়, অংশগ্রহণকারীদের কৃষি উৎপাদন ৬৬ শতাংশ, আয় ৪৯ শতাংশ এবং মুনাফা ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা জানান, এই প্রকল্প তাদেরকে চাকরিপ্রার্থী থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত করতে সহায়তা করেছে এবং অনেকেই এখন জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতিও পাচ্ছেন।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 























