রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বর সেকশনে ৭.০৫ এমএম মডেলের একটি বিদেশি পিস্তল ডেলিভারি দিতে এসে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সোহেল রানা ও হানিফ নামের দুই অস্ত্র কারবারি। হোয়াটসঅ্যাপে প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রি, সীমান্তপথে সরবরাহ এবং কাটআউট পদ্ধতিতে লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এই ঘটনায়।
ডিবি সূত্র জানায়, অস্ত্রটির দাম ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় চূড়ান্ত হওয়ার পর টাকা ও পিস্তল আলাদা দুজনের মাধ্যমে হস্তান্তরের সময় তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কিনে ৩০ হাজার টাকা লাভে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাদের।
একই ধরনের ঘটনায় গত শনিবার আগারগাঁও থেকে ৭.৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তদন্তে বেরিয়ে আসে, সীমান্তপথে আসা এসব অস্ত্র ঢাকায় এনে চক্রটি ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়ায়ও সরবরাহ করত এবং চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহার করত।
অন্যদিকে রাজধানীতে কলমের মতো দেখতে ক্ষুদ্র অস্ত্র পেনগান ব্যবহারের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। পুরান ঢাকায় এক যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনার তদন্তে এ অস্ত্রের সন্ধান মেলে, যা ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্র বলছে, বর্তমানে অবৈধ অস্ত্রের বাজারে ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। প্রি-অর্ডার দিয়ে বাসায় বসেই অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, যা সংগঠিত অপরাধকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযানে শতাধিক অস্ত্র ব্যবসায়ীর সক্রিয়তার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ১ হাজার ৩২৩টি লুট হওয়া অস্ত্র এবং আড়াই লাখের বেশি গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের পুরোনো রুটগুলো দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ এবং রাজনৈতিক ও অপরাধী চক্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি বাড়ালেও মূল চক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 



















