বাংলাদেশ ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করার পরিণতি

সংগৃহীত ছবি

‘গুনাহ’ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত হলেও এটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। এর অর্থ পাপ, অন্যায়, কলুষ বা দুষ্কৃতি। আরবি ভাষায় গুনাহ বা পাপ বোঝাতে বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহৃত হয়, যেমন—আল ইছম, আল খাত্বা, আল মাসিয়াহ, আল জুর্ম, আয্ যান্ব ইত্যাদি। শব্দগুলোতে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও মূল অর্থ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ অমান্য করা বা নিষিদ্ধ কাজ করা, তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে।

একজন মুমিনের জন্য সবসময় অন্তরকে পাপ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা সুরা ইউসুফে ইউসুফ (আ.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, মানুষ সহজেই মন্দপ্রবণ, তবে আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া। (সুরা ইউসুফ, আয়াত ৫৩)

গুনাহ যত ছোটই হোক, তাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহকে এত বড় মনে করে যেন সে পর্বতের নিচে বসে আছে এবং তা তার ওপর ধসে পড়ার আশঙ্কা করছে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি গুনাহকে মাছির মতো মনে করে যা সহজেই উড়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩০৮)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ছোট গুনাহ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ছোট গুনাহগুলো একত্র হয়ে মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে, যেমনভাবে ছোট ছোট কাঠ একত্র হয়ে আগুন জ্বালায়। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস ২২৮৬০)

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, গুনাহকে হালকাভাবে দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ছোট গুনাহগুলো জমা হয়ে বড় বিপদের কারণ হয় এবং মৃত্যুর সময় ঈমানহানির কারণও হতে পারে। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন ৩/৬০)

ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহ.) উল্লেখ করেন, গুনাহ মানুষের জ্ঞান, রিজিক এবং মানসিক প্রশান্তি—সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গুনাহ মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, ফলে সে ভিড়ের মধ্যেও নিঃসঙ্গ অনুভব করে।

সাহাবায়ে কেরাম গুনাহকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। আনাস (রা.) বলেন, সাহাবারা এমন ছোট কাজকেও ভয় করতেন যা আমরা এখন খুব সামান্য মনে করি। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪৯২)

আবু বকর (রা.)-এর ঘটনাও এ বিষয়ে শিক্ষণীয়। সামান্য একটি কথার জন্য তিনি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং রাসুল (সা.)-এর কাছে এর সমাধান চান। এতে সাহাবিদের গুনাহভীতি ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, ইসলাম শিক্ষা দেয়—কোনো গুনাহকেই ছোট বা তুচ্ছ মনে করা যাবে না। বরং প্রতিটি পাপকে আল্লাহর শাস্তির সম্ভাবনা হিসেবে দেখে তা থেকে বেঁচে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করার পরিণতি

প্রকাশিত: ০৬:০৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

‘গুনাহ’ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত হলেও এটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। এর অর্থ পাপ, অন্যায়, কলুষ বা দুষ্কৃতি। আরবি ভাষায় গুনাহ বা পাপ বোঝাতে বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহৃত হয়, যেমন—আল ইছম, আল খাত্বা, আল মাসিয়াহ, আল জুর্ম, আয্ যান্ব ইত্যাদি। শব্দগুলোতে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও মূল অর্থ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ অমান্য করা বা নিষিদ্ধ কাজ করা, তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে।

একজন মুমিনের জন্য সবসময় অন্তরকে পাপ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা সুরা ইউসুফে ইউসুফ (আ.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, মানুষ সহজেই মন্দপ্রবণ, তবে আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া। (সুরা ইউসুফ, আয়াত ৫৩)

গুনাহ যত ছোটই হোক, তাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহকে এত বড় মনে করে যেন সে পর্বতের নিচে বসে আছে এবং তা তার ওপর ধসে পড়ার আশঙ্কা করছে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি গুনাহকে মাছির মতো মনে করে যা সহজেই উড়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩০৮)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ছোট গুনাহ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ছোট গুনাহগুলো একত্র হয়ে মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে, যেমনভাবে ছোট ছোট কাঠ একত্র হয়ে আগুন জ্বালায়। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস ২২৮৬০)

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, গুনাহকে হালকাভাবে দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ছোট গুনাহগুলো জমা হয়ে বড় বিপদের কারণ হয় এবং মৃত্যুর সময় ঈমানহানির কারণও হতে পারে। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন ৩/৬০)

ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহ.) উল্লেখ করেন, গুনাহ মানুষের জ্ঞান, রিজিক এবং মানসিক প্রশান্তি—সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গুনাহ মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, ফলে সে ভিড়ের মধ্যেও নিঃসঙ্গ অনুভব করে।

সাহাবায়ে কেরাম গুনাহকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। আনাস (রা.) বলেন, সাহাবারা এমন ছোট কাজকেও ভয় করতেন যা আমরা এখন খুব সামান্য মনে করি। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪৯২)

আবু বকর (রা.)-এর ঘটনাও এ বিষয়ে শিক্ষণীয়। সামান্য একটি কথার জন্য তিনি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং রাসুল (সা.)-এর কাছে এর সমাধান চান। এতে সাহাবিদের গুনাহভীতি ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, ইসলাম শিক্ষা দেয়—কোনো গুনাহকেই ছোট বা তুচ্ছ মনে করা যাবে না। বরং প্রতিটি পাপকে আল্লাহর শাস্তির সম্ভাবনা হিসেবে দেখে তা থেকে বেঁচে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত।

kalprakash.com/SS