বাংলাদেশ ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, ‘সংকট’ বলতে নারাজ তিন মন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০৪:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 30

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক একটি নোটিশ উত্থাপন করেন।

নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জ্বালানি সংকট’ বলতে রাজি নন।

সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলীয় নেতার দেওয়া প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সরকার একমত।

এর আগে নোটিশ উত্থাপন করে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছে না, ফলে জনজীবনে বহুমাত্রিক সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তব পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সংকটের কথা অস্বীকার করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। তাই প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের আমদানিকৃত জ্বালানির বড় অংশ সৌদি আরব ও আমিরাতনির্ভর হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে এবং এটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার দাবি, জেলা শহরগুলোতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে আলোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘সংকট’ বলতে চান না। তার ভাষায়, জ্বালানির কারণে দেশে কৃষিকাজ, শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কোথাও কালোবাজারি বা অবৈধ মজুতের ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মাঠপর্যায়ে তদারকি করছে এবং অনলাইনে জ্বালানি বিক্রির কালোবাজারিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি পাচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার সফলভাবে এসব পাচার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে জ্বালানি সংকট নেই, বরং এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক লাইন সৃষ্টি ষড়যন্ত্রের অংশও হতে পারে।

তিনি জ্বালানি তেলের অবৈধ লাইন ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, ‘সংকট’ বলতে নারাজ তিন মন্ত্রী
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, ‘সংকট’ বলতে নারাজ তিন মন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৪:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক একটি নোটিশ উত্থাপন করেন।

নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জ্বালানি সংকট’ বলতে রাজি নন।

সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলীয় নেতার দেওয়া প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সরকার একমত।

এর আগে নোটিশ উত্থাপন করে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছে না, ফলে জনজীবনে বহুমাত্রিক সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তব পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সংকটের কথা অস্বীকার করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। তাই প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের আমদানিকৃত জ্বালানির বড় অংশ সৌদি আরব ও আমিরাতনির্ভর হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে এবং এটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার দাবি, জেলা শহরগুলোতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে আলোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘সংকট’ বলতে চান না। তার ভাষায়, জ্বালানির কারণে দেশে কৃষিকাজ, শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কোথাও কালোবাজারি বা অবৈধ মজুতের ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মাঠপর্যায়ে তদারকি করছে এবং অনলাইনে জ্বালানি বিক্রির কালোবাজারিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি পাচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার সফলভাবে এসব পাচার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে জ্বালানি সংকট নেই, বরং এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক লাইন সৃষ্টি ষড়যন্ত্রের অংশও হতে পারে।

তিনি জ্বালানি তেলের অবৈধ লাইন ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, ‘সংকট’ বলতে নারাজ তিন মন্ত্রী