নওগাঁর মান্দা থানা এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি বিশেষ অভিযানে শীর্ষ অনলাইন জুয়ারিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় মান্দা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন এবং মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম-এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অর্থপাচার এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সোহেল হোসেন (২৪), মো. রবিউল ইসলাম (১৯) এবং মো. সোহেল রানা (২০)। তাদের মধ্যে সোহেল হোসেনকে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সোহেল হোসেনের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৬টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ এবং ৫টি পিসি ও মনিটর জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর ২০, ২২(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে একই ধারাবাহিকতায় ১৫ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দিনবনি হাড়ি এলাকায় ফজলুর রহমানের একতলা বাড়ির নিচতলায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখানে একটি অনলাইন জুয়ার সেন্টারের সন্ধান পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে কক্ষ ভাড়া নিয়ে কয়েকজন তরুণ অনলাইন জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছিল। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জুয়ারিরা গভীর রাতে অনলাইনে জুয়া খেলছিলেন।
অভিযানে ১২ জন অনলাইন জুয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১৫টি মোবাইল ফোন, ১১টি পিসি, ১১টি মনিটর, ১১টি কিবোর্ড এবং ৩টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্তরা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলারের অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা জুড়ে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
নওগাঁ প্রতিনিধি 





















