ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির শেষ সময় ঘনিয়ে আসার ঠিক আগে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সফরও বাতিল হয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কিছু প্রাথমিক শর্তের তালিকা পাঠালেও দীর্ঘ সময় পার হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকের সময়ও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি বলে জানা যায়। মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন, তবে তাতেও তাৎক্ষণিক অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনই আলোচনায় ধীরগতির প্রধান কারণ। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে তেহরানের ভেতরে মতভেদ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আরও সময় পাওয়া যায়।
ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে একটি কূটনৈতিক সমাধান চান এবং ইরানি নেতৃত্বকে অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অনিশ্চয়তা এবং ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র সময় বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে একটি সমাধানের পথ খোলা রাখা যায়।
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























