যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হতে যাওয়া এই সংলাপ ঘিরে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে “সতর্ক আশাবাদ”, যদিও পুরো প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত নাজুক বলে স্বীকার করা হয়েছে।
আলোচনার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল অভিজ্ঞ ও সক্ষম। তিনি সরাসরি কোনো ফলাফলের নিশ্চয়তা না দিয়ে বলেন, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়, আমাদের একটি দক্ষ দল সেখানে যাচ্ছে।
ট্রাম্প আলোচনাকে কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গও তোলেন। তার দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ শেষ পর্যন্ত খুলে যাবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতাই এর গতি নির্ধারণ করবে। সম্ভাব্য ব্যর্থতা মোকাবিলায় কোনো বিকল্প পরিকল্পনা আছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে আলোচনায় যুক্ত মার্কিন উপদেষ্টা দল, যার নেতৃত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, তুলনামূলকভাবে কূটনৈতিক সুরে কথা বলেছেন। ভ্যান্স জানান, আলোচনা ইতিবাচক হতে পারে, তবে ইরানকে সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা কোনো ধরনের কৌশলগত চালাকি না করে।
এদিকে পাকিস্তান এই আলোচনায় নিজেদেরকে সিদ্ধান্তদাতা নয়, বরং সহায়ক ও নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ জানান, দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরসহ একাধিক দেশ এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা আলোচনাকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে। তার মতে, এখন আলোচনার চূড়ান্ত ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে এবং এর সাফল্য নির্ভর করবে দুই পক্ষের গঠনমূলক মনোভাবের ওপর।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই সংলাপকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অঙ্গনে যেমন আশা তৈরি হয়েছে, তেমনি রয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা—যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে করেছে আরও সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























