অঙ্গীকার রক্ষা করা একজন সত্যিকারের ভালো মানুষের পরিচয়। ইসলাম এই গুণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়েছে—তারা ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করে। একইভাবে আল্লাহ তাআলাও তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।
মানবজাতির শ্রেষ্ঠ আদর্শ নবী মুহাম্মাদ (সা.) প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ছিলেন অতুলনীয়। নবুয়তের আগেই তিনি আল-আমিন নামে পরিচিত ছিলেন—অর্থাৎ বিশ্বস্ত ও বিশ্বাসযোগ্য। এমনকি তাঁর শত্রুরাও স্বীকার করত, তিনি কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।
বদরের যুদ্ধের সময় হুজাইফা (রা.) ও তাঁর পিতাকে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল, কারণ তারা কুরাইশদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। রাসুল (সা.) তাদের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার নির্দেশ দেন, যদিও তখন মুসলমানদের জন্য প্রতিটি যোদ্ধা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়ও নবীজি (সা.) একই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। চুক্তি অনুযায়ী মক্কার কোনো ব্যক্তি মদিনায় এলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে—এই শর্ত কঠিন হলেও তিনি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। আবু বাসির (রা.)-এর ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
নবুয়তের আগের একটি ঘটনাতেও তাঁর সততার প্রমাণ মেলে। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে কিছু পাওনা রেখে পরে তা পরিশোধ করতে ভুলে যান। তিন দিন পর ফিরে এসে দেখেন, নবীজি (সা.) এখনও সেখানে অপেক্ষা করছেন—শুধু একটি প্রতিশ্রুতির জন্য।
ইসলামে ওয়াদা ভঙ্গকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। হাদিসে এটিকে মুনাফেকির লক্ষণ বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত নেমে আসে এবং কিয়ামতের দিন তার বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হিসেবে পতাকা উত্তোলন করা হবে।
তবে কোনো যৌক্তিক কারণে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়লে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি জানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা শুধু নৈতিক গুণ নয়—এটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। নবীজি (সা.)-এর জীবন থেকে আমরা শিখি, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ওয়াদা রক্ষা করা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























