ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষকরা ইরান–আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যের ধান ও গম চাষিদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গুরবিন্দর সিং বলেন, সময়মতো সার না পেলে ফসলের ফলন কমবে, যার প্রভাব পুরো অঞ্চলের কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে।
ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ১.৮ ট্রিলিয়ন রুপি (২২ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করা হয়েছে। কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউরিয়া সার ঘাটতি এবং গ্যাস সংকট সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। ভারতের কৃষি রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীল, এবং গ্যাস ঘাটতি কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে।
কর্ণাটক ও পাঞ্জাবের কৃষকরা বলছেন, সার ঘাটতি ‘খরিফ মৌসুমে’ (জুন–অক্টোবর) ধানের বপনের আগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সার বিক্রেতারা উল্লেখ করছেন, অনেকেই আগাম সার মজুত করছেন, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, কারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং ব্যাফার স্টকও বেশি রয়েছে। তবে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকরা ঋণের বোঝা ও সম্ভাব্য ফসল ক্ষতির ভয় নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং সার সরবরাহ বাধাগ্রস্ত থাকে, তবে ভারতের মতো কৃষি নির্ভর দেশগুলোতে খাদ্য সংকট তীব্র হতে পারে, যা শ্রীলঙ্কা ও সুদানের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















