বাংলাদেশ ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

এবার বিএনপি’র সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক টিপুর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক কৌশল, ভোটের সমীকরণ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমঝোতা নিয়ে বিস্তৃত দাবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন এ্যাড. মোঃ তাইফুল ইসলাম টিপু। বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদকের দেওয়া এই ফেসবুক স্ট্যাটাস রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, এ্যাড. মোঃ তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশগ্রহণ করে দলের প্রাথমিক পদ সহ কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ কথিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন’-এর পরদিন থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সক্রিয়ভাবে ভোটের রাজনীতিতে নেমে পড়ে এবং আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের দিকে টানার কৌশল গ্রহণ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত সরাসরি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিয়ে কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং মাঠপর্যায়ে সমঝোতার রাজনীতি চালায়। এমনকি জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা ভারতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, ছয় মাস ধরে গ্রামভিত্তিক প্রচারণা, নারী কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছিল জামায়াত। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মামলা ও রাজনৈতিক চাপের কৌশল গ্রহণ করে—যা উল্টো জামায়াত-আওয়ামী লীগ সমঝোতাকে আরও জোরদার করে তোলে বলে দাবি করেন টিপু।

পোস্টে তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুধাবন করে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন। প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব না পেলেও পরে দলীয় হাইকমান্ড হিন্দু ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার কৌশলে জোর দেয়। এ প্রেক্ষাপটে কপিল কৃষ্ণ মন্ডলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমঝোতা হয়। নির্বাচনের আগে কয়েকজন হিন্দু নেতা বিএনপিতে যোগ দেন এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমঝোতার অংশ হিসেবে বাগেরহাটের দুটি আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ও সোমনাথকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও স্থানীয় অসহযোগিতার কারণে তারা জয়ী হতে পারেননি, তবুও হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় অংশের ভোট বিএনপির পক্ষে যায় বলে দাবি করেন টিপু। তার মতে, এই ভোট স্থানান্তর না হলে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত ছিল।

পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, নিজের আসন নাটোর-১-এ একই কৌশল প্রয়োগ করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি। “আমি সকল প্রক্রিয়া করলাম, কিন্তু আমার আসনে হিন্দু ভোট ধানের শীষে না গেলে আমি বিজয়ী হতাম”—এমন মন্তব্য করে তিনি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আক্ষেপও প্রকাশ করেন।

তবে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে টিপুর এই দাবিগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এবার বিএনপি’র সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক টিপুর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল!
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

এবার বিএনপি’র সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক টিপুর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল!

প্রকাশিত: ১২:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক কৌশল, ভোটের সমীকরণ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমঝোতা নিয়ে বিস্তৃত দাবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন এ্যাড. মোঃ তাইফুল ইসলাম টিপু। বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদকের দেওয়া এই ফেসবুক স্ট্যাটাস রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, এ্যাড. মোঃ তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশগ্রহণ করে দলের প্রাথমিক পদ সহ কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ কথিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন’-এর পরদিন থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সক্রিয়ভাবে ভোটের রাজনীতিতে নেমে পড়ে এবং আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের দিকে টানার কৌশল গ্রহণ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত সরাসরি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিয়ে কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং মাঠপর্যায়ে সমঝোতার রাজনীতি চালায়। এমনকি জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা ভারতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, ছয় মাস ধরে গ্রামভিত্তিক প্রচারণা, নারী কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছিল জামায়াত। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মামলা ও রাজনৈতিক চাপের কৌশল গ্রহণ করে—যা উল্টো জামায়াত-আওয়ামী লীগ সমঝোতাকে আরও জোরদার করে তোলে বলে দাবি করেন টিপু।

পোস্টে তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুধাবন করে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেন। প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব না পেলেও পরে দলীয় হাইকমান্ড হিন্দু ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার কৌশলে জোর দেয়। এ প্রেক্ষাপটে কপিল কৃষ্ণ মন্ডলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমঝোতা হয়। নির্বাচনের আগে কয়েকজন হিন্দু নেতা বিএনপিতে যোগ দেন এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমঝোতার অংশ হিসেবে বাগেরহাটের দুটি আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ও সোমনাথকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও স্থানীয় অসহযোগিতার কারণে তারা জয়ী হতে পারেননি, তবুও হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় অংশের ভোট বিএনপির পক্ষে যায় বলে দাবি করেন টিপু। তার মতে, এই ভোট স্থানান্তর না হলে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত ছিল।

পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, নিজের আসন নাটোর-১-এ একই কৌশল প্রয়োগ করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি। “আমি সকল প্রক্রিয়া করলাম, কিন্তু আমার আসনে হিন্দু ভোট ধানের শীষে না গেলে আমি বিজয়ী হতাম”—এমন মন্তব্য করে তিনি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আক্ষেপও প্রকাশ করেন।

তবে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে টিপুর এই দাবিগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এবার বিএনপি’র সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক টিপুর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল!