বাংলাদেশ ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৭ Logo অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান: শীর্ষ জুয়ারীসহ গ্রেফতার ১৫ Logo লামায় থামছেই না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ Logo রাস্তার পাশে ছোট্ট কুটিরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন Logo তেজগাঁও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট Logo নবনিযুক্ত কুবি উপাচার্যকে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শুভেচ্ছা Logo নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষকদলের কমিটি গঠন, আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব সবুর Logo পাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম Logo স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, দম্পতির ওপর হামলা

‘হ্যালো হেডকোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি… কিছু ফোর্স পাঠান প্লিজ’

বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানা হত্যাযজ্ঞে শহীদ কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদের বীরত্ব গাঁথা ও তার কিছু ফোনালাপ গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও সামনে আসে।

আলোচিত ফোনালাপের মধ্যে রয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি সেনা হেডকোয়ার্টারে ফোন করে বলেছিলেন-‘হ্যালো হেডকোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি… কিছু ফোর্স পাঠান প্লিজ। ওরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।’ আর চল্লিশ মিনিট পর ফোনে তার শেষ আর্তনাদ ভেসে আসে -‘অনেক অফিসারের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে… আপনারা কি আসবেন না আমাদের বাঁচাতে?’

শহীদ কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) গোয়েন্দা বিভাগের (ইন্টেলিজেন্স উইং) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল হিসেবে সর্বশেষ বিডিআরের সেক্টর কমান্ডার (সিলেট) পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তার বীরত্ব গাঁথা স্মরণ করে নেটিজেনের অনেকে লেখেন, ‘এই কণ্ঠস্বর ছিল এক সাহসী সৈনিকের, এক দেশপ্রেমিক অফিসারের।
২০০৪–০৫ সালে যখন জেএমবি সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল, তখন তার চৌকস পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বে পুরো জেএমবি নেটওয়ার্ককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। দেশ ফিরে পায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।’

তার কৃতিত্বের অন্যতম স্বাক্ষর -শীর্ষ জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমানকে সিলেটের সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে তিনি বিনা রক্তপাতে আটক করেন তার অসাধারণ গোয়েন্দা কৌশলের মাধ্যমে।

যদিও নির্দেশ ছিল পুরো বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়ার। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও জঙ্গি দমনে তার অসাধারণ দক্ষতার প্রশংসা করেছিল।

তার সাহসিকতার পাশাপাশি তার ঈমান ও দৃঢ়তার সহিত দেশপ্রেমের নজিরও তার ফোনালাপে পাওয়া যায়, -বাংলা ভাইকে আটক করার অভিযানের সময়, তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ফোন করে বলেছিলেন, ‘এত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার দরকার কী?’

এমন প্রশ্নের দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিয়েছিলেন, ‘তোমার সাহস তো কম না! তুমি আমাকে নিষেধ করছ আমার দেশের মানুষকে বাঁচাতে! তোমাদের জন্য আল্লাহ আছেন, আমার জন্যও আছেন। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। ফোন রাখো।’

বিডিআর হত্যাযজ্ঞের মাত্র দশ দিন আগে বিডিআরে যোগদান করেছিলেন তিনি। সৈনিকদের সাথে তার ছিল না ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন বা বিরোধ।

তবুও হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পর তার লাশটিই সবচেয়ে বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার ছোট সন্তানই শনাক্ত করে তার লাশ।
৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলার মাটিতে বহু সেনা অফিসার জন্ম নেবে, আরও অনেকে আসবেন।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের এই দিনে তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করে তার মাগফিরাত কামনাও করে নেটিজেনরা।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৭

‘হ্যালো হেডকোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি… কিছু ফোর্স পাঠান প্লিজ’

প্রকাশিত: ০১:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানা হত্যাযজ্ঞে শহীদ কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদের বীরত্ব গাঁথা ও তার কিছু ফোনালাপ গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও সামনে আসে।

আলোচিত ফোনালাপের মধ্যে রয়েছে, মৃত্যুর আগে তিনি সেনা হেডকোয়ার্টারে ফোন করে বলেছিলেন-‘হ্যালো হেডকোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি… কিছু ফোর্স পাঠান প্লিজ। ওরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।’ আর চল্লিশ মিনিট পর ফোনে তার শেষ আর্তনাদ ভেসে আসে -‘অনেক অফিসারের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে… আপনারা কি আসবেন না আমাদের বাঁচাতে?’

শহীদ কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) গোয়েন্দা বিভাগের (ইন্টেলিজেন্স উইং) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল হিসেবে সর্বশেষ বিডিআরের সেক্টর কমান্ডার (সিলেট) পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তার বীরত্ব গাঁথা স্মরণ করে নেটিজেনের অনেকে লেখেন, ‘এই কণ্ঠস্বর ছিল এক সাহসী সৈনিকের, এক দেশপ্রেমিক অফিসারের।
২০০৪–০৫ সালে যখন জেএমবি সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল, তখন তার চৌকস পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বে পুরো জেএমবি নেটওয়ার্ককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। দেশ ফিরে পায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।’

তার কৃতিত্বের অন্যতম স্বাক্ষর -শীর্ষ জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমানকে সিলেটের সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে তিনি বিনা রক্তপাতে আটক করেন তার অসাধারণ গোয়েন্দা কৌশলের মাধ্যমে।

যদিও নির্দেশ ছিল পুরো বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়ার। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও জঙ্গি দমনে তার অসাধারণ দক্ষতার প্রশংসা করেছিল।

তার সাহসিকতার পাশাপাশি তার ঈমান ও দৃঢ়তার সহিত দেশপ্রেমের নজিরও তার ফোনালাপে পাওয়া যায়, -বাংলা ভাইকে আটক করার অভিযানের সময়, তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ফোন করে বলেছিলেন, ‘এত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার দরকার কী?’

এমন প্রশ্নের দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিয়েছিলেন, ‘তোমার সাহস তো কম না! তুমি আমাকে নিষেধ করছ আমার দেশের মানুষকে বাঁচাতে! তোমাদের জন্য আল্লাহ আছেন, আমার জন্যও আছেন। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। ফোন রাখো।’

বিডিআর হত্যাযজ্ঞের মাত্র দশ দিন আগে বিডিআরে যোগদান করেছিলেন তিনি। সৈনিকদের সাথে তার ছিল না ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন বা বিরোধ।

তবুও হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পর তার লাশটিই সবচেয়ে বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার ছোট সন্তানই শনাক্ত করে তার লাশ।
৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলার মাটিতে বহু সেনা অফিসার জন্ম নেবে, আরও অনেকে আসবেন।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের এই দিনে তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করে তার মাগফিরাত কামনাও করে নেটিজেনরা।