বাংলাদেশ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই স্মৃতিফলকের উদ্বোধন Logo জেলা তথ্য অফিসের কার্যক্রমকে আরও সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী Logo কুবি শিক্ষক সমিতিতে নতুন দুই সদস্য, সম্ভাব্য নির্বাচন ডিসেম্বরে Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা

লক্ষ্মীপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি দখলকে ঘিরে চরম উত্তেজনা

ছবিঃ সংগৃহীত

ক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি পুনরায় দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি পক্ষের দখলচেষ্টার কারণে পুরো বাজারজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসও মো. শাকিলের বিরুদ্ধে চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও নিয়মিত তদারকির অভাবেই দখলদাররা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অভিযান চালিয়ে চৌধুরী বাজারের সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করে। সে সময় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশ বুঝিয়ে দিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখার জন্য চুক্তিনামা সম্পাদন করা হয়। ওই চুক্তির ভিত্তিতে মালিকরা নিজেদের জমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি স্থানীয় একটি চক্র পুনরায় পাউবো’র দখলমুক্ত জমি জবরদখল করে সেখানে বাঁশের ব্যারিকেড স্থাপন করে ব্যবসা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে প্রতিবাদ জানালে ব্যবসায়ীদের গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী এম এ মন্নান বলেন, দখলদারদের কারণে আমরা দোকান খুলতে পারছি না। প্রশাসনের নিরবতা আমাদের চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

অভিযুক্ত স্থানীয় যুবক মো. শরীফ নিজেই দখল ও ব্যারিকেড দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল কুদ্দুস পাঠান দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

চৌধুরী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শাহ আলম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় খুনোখুনির ঘটনা ঘটতে পারে।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

তবে অভিযুক্ত এসও মো. শাকিল দাবি করেন, পুনরায় দখলের বিষয়টি তার জানা নেই এবং লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি সম্ভব হচ্ছে না। তার এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলছেন, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যই প্রমাণ করে কেন বারবার সরকারি সম্পত্তি দখল হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই স্মৃতিফলকের উদ্বোধন

লক্ষ্মীপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি দখলকে ঘিরে চরম উত্তেজনা

প্রকাশিত: ১১:৪২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি পুনরায় দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি পক্ষের দখলচেষ্টার কারণে পুরো বাজারজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসও মো. শাকিলের বিরুদ্ধে চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও নিয়মিত তদারকির অভাবেই দখলদাররা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অভিযান চালিয়ে চৌধুরী বাজারের সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করে। সে সময় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশ বুঝিয়ে দিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখার জন্য চুক্তিনামা সম্পাদন করা হয়। ওই চুক্তির ভিত্তিতে মালিকরা নিজেদের জমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি স্থানীয় একটি চক্র পুনরায় পাউবো’র দখলমুক্ত জমি জবরদখল করে সেখানে বাঁশের ব্যারিকেড স্থাপন করে ব্যবসা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে প্রতিবাদ জানালে ব্যবসায়ীদের গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী এম এ মন্নান বলেন, দখলদারদের কারণে আমরা দোকান খুলতে পারছি না। প্রশাসনের নিরবতা আমাদের চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

অভিযুক্ত স্থানীয় যুবক মো. শরীফ নিজেই দখল ও ব্যারিকেড দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল কুদ্দুস পাঠান দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

চৌধুরী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শাহ আলম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় খুনোখুনির ঘটনা ঘটতে পারে।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

তবে অভিযুক্ত এসও মো. শাকিল দাবি করেন, পুনরায় দখলের বিষয়টি তার জানা নেই এবং লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি সম্ভব হচ্ছে না। তার এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলছেন, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যই প্রমাণ করে কেন বারবার সরকারি সম্পত্তি দখল হচ্ছে।