বাংলাদেশ ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চাহিদার দ্বিগুণ উৎপাদনেও আমদানি অব্যাহত

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে সালফিউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হলেও বাজারে এখনো আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এতে দেশীয় শিল্প খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড উৎপাদন হচ্ছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা রয়েছে মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনের মধ্যে। এই উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওয়াটা কেমিক্যালস, ক্রিসেন্ট কেমিক্যালস, স্যালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এএ রসায়ন শিল্প লিমিটেড এবং টিএসপি কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান।

তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সাফটা সুবিধার আওতায় কম শুল্কে বিদেশি সালফিউরিক অ্যাসিড দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং বাজারে মানহীন পণ্যের আধিপত্য বাড়ছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে উৎপাদিত অতিরিক্ত সালফিউরিক অ্যাসিড রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হচ্ছে না। বরং উল্টো আমদানি নির্ভরতা তৈরি হওয়ায় বছরে শত শত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সালফিউরিক অ্যাসিড উৎপাদনকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম আব্দুল্লাহ বলেন, উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও আমদানি বন্ধ হচ্ছে না। এতে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় অপচয় হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতসহ কিছু দেশ থেকে কম দামে মানহীন অ্যাসিড প্রবেশ করায় স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। উৎপাদন বন্ধ হলে আড়াই লাখের বেশি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করছেন, দেশীয় শিল্প রক্ষায় আমদানি শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অন্যথায় এই খাত দীর্ঘমেয়াদে ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

kalprakash.com/SS
জনপ্রিয় সংবাদ

চাহিদার দ্বিগুণ উৎপাদনেও আমদানি অব্যাহত

প্রকাশিত: ১২:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দেশে সালফিউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হলেও বাজারে এখনো আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এতে দেশীয় শিল্প খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড উৎপাদন হচ্ছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা রয়েছে মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনের মধ্যে। এই উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওয়াটা কেমিক্যালস, ক্রিসেন্ট কেমিক্যালস, স্যালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এএ রসায়ন শিল্প লিমিটেড এবং টিএসপি কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান।

তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সাফটা সুবিধার আওতায় কম শুল্কে বিদেশি সালফিউরিক অ্যাসিড দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং বাজারে মানহীন পণ্যের আধিপত্য বাড়ছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে উৎপাদিত অতিরিক্ত সালফিউরিক অ্যাসিড রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হচ্ছে না। বরং উল্টো আমদানি নির্ভরতা তৈরি হওয়ায় বছরে শত শত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সালফিউরিক অ্যাসিড উৎপাদনকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম আব্দুল্লাহ বলেন, উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও আমদানি বন্ধ হচ্ছে না। এতে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় অপচয় হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতসহ কিছু দেশ থেকে কম দামে মানহীন অ্যাসিড প্রবেশ করায় স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। উৎপাদন বন্ধ হলে আড়াই লাখের বেশি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করছেন, দেশীয় শিল্প রক্ষায় আমদানি শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অন্যথায় এই খাত দীর্ঘমেয়াদে ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

kalprakash.com/SS