বাংলাদেশ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ভুয়া অ্যাপের ফাঁদে স্মার্টফোন, মুহূর্তেই খালি হচ্ছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

সংগৃহীত ছবি

দেশে নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। লোভনীয় অফার বা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেওয়া ভুয়া মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করালেই হ্যাকাররা স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে এ ধরনের অন্তত ৩০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্র সাধারণত এসএমএস, সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে।

অ্যাপ ইনস্টল করার পরপরই অনেক ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিন ব্ল্যাক হয়ে যায় বা ডিভাইস অচল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে হ্যাকাররা ব্যাংকিং অ্যাপ বা আর্থিক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে টাকা স্থানান্তর করে নেয়।

ভুক্তভোগীদের একজন পিংকি জানান, অনলাইনে একটি বিজ্ঞাপন দেখে তিনি এনবি নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেন। ইনস্টলের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফোন হ্যাং হয়ে যায় এবং পরে অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা তুলে নেওয়ার এসএমএস পান তিনি।

একই ধরনের ঘটনার শিকার সৌম্য কান্তি দাশ বলেন, ব্যাংকিং অ্যাপে লগইন করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ফোনে সিস্টেম আপডেটিং লেখা আসে এবং ফোন ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। পরে তিনি দেখতে পান তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর মতো আচরণ করে অর্থ স্থানান্তর করছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, টাকা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল ঘুরে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে, যার কিছু চক্রের নিয়ন্ত্রণে এবং কিছু ক্ষেত্রে দেশের বাইরের নেটওয়ার্ক থেকেও পরিচালিত হতে পারে।

সাইবার বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং বা আর্থিক তথ্য সংযুক্ত ডিভাইসে অচেনা অ্যাপ ইনস্টল করা ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো অপরিচিত লিংক বা লোভনীয় অফারে ক্লিক না করা এবং সন্দেহজনক কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়াই নিরাপদ ব্যবস্থা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের সাইবার প্রতারণা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ভুয়া অ্যাপের ফাঁদে স্মার্টফোন, মুহূর্তেই খালি হচ্ছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

প্রকাশিত: ০৬:২৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দেশে নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। লোভনীয় অফার বা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেওয়া ভুয়া মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করালেই হ্যাকাররা স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে এ ধরনের অন্তত ৩০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্র সাধারণত এসএমএস, সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে।

অ্যাপ ইনস্টল করার পরপরই অনেক ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিন ব্ল্যাক হয়ে যায় বা ডিভাইস অচল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে হ্যাকাররা ব্যাংকিং অ্যাপ বা আর্থিক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে টাকা স্থানান্তর করে নেয়।

ভুক্তভোগীদের একজন পিংকি জানান, অনলাইনে একটি বিজ্ঞাপন দেখে তিনি এনবি নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেন। ইনস্টলের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফোন হ্যাং হয়ে যায় এবং পরে অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা তুলে নেওয়ার এসএমএস পান তিনি।

একই ধরনের ঘটনার শিকার সৌম্য কান্তি দাশ বলেন, ব্যাংকিং অ্যাপে লগইন করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ফোনে সিস্টেম আপডেটিং লেখা আসে এবং ফোন ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। পরে তিনি দেখতে পান তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর মতো আচরণ করে অর্থ স্থানান্তর করছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, টাকা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল ঘুরে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে, যার কিছু চক্রের নিয়ন্ত্রণে এবং কিছু ক্ষেত্রে দেশের বাইরের নেটওয়ার্ক থেকেও পরিচালিত হতে পারে।

সাইবার বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং বা আর্থিক তথ্য সংযুক্ত ডিভাইসে অচেনা অ্যাপ ইনস্টল করা ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো অপরিচিত লিংক বা লোভনীয় অফারে ক্লিক না করা এবং সন্দেহজনক কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়াই নিরাপদ ব্যবস্থা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের সাইবার প্রতারণা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

kalprakash.com/SS