যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান অচলাবস্থা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহর সঙ্গে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন ইসহাক দার।
আলোচনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও অচলাবস্থা নিরসনে তার দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ মুসলিম উম্মাহ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আবারও যেকোনো সময় নতুন করে শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যেকোনো ‘দুঃসাহসিকতা’ বা ‘বোকামির’ জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন কিংবা চুক্তির প্রতি ওয়াশিংটনের আচরণে নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধের আগের আলোচনা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতির পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইরান নমনীয়তা দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং ইরান নিজেদের অবস্থান কিছুটা শিথিল করলেই ওয়াশিংটন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
এদিকে কয়েকটি সূত্রের বরাতে Al Jazeera জানিয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রত্যাখ্যান করা একটি শান্তি প্রস্তাবে ইরান তাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি থেকে সরে এসেছিল। সেই প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়।
বর্তমানে ইরানের অবস্থান হলো, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রয়োজন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























