জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তার নামে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে প্রায় ১৭ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্পদের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তী অনুসন্ধানে মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় বলে জানা যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল আটকে রেখে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বগুড়ার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তার নামে ও স্বজনদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি শেয়ার বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ব্যাংক আমানতের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদক বলছে, অবৈধ অর্থকে বৈধ করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক জাল তৈরি করা হয়েছিল। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ফয়সালের পাশাপাশি তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোনসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























