বাংলাদেশ ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’ Logo নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে সম্মানি ও পারিতোষিকের হার পুনর্নির্ধারণ Logo ইউএইর ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য এলো ৬ নতুন সুবিধা Logo বদর যুদ্ধের আয়াত তেলাওয়াত, আলোচনা কূটনৈতিক বার্তা Logo ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে দূতাবাসের মতবিনিময় সভা Logo হাওরের জন্য আগাম ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে: কৃষিমন্ত্রী Logo সার্টিফিকেটে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা বোর্ডের Logo সীমান্তে কথিত পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর তৎপরতায় ব্যর্থ Logo প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে গেছে ব্রিজের সংযোগ সড়ক, স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে পিআইও Logo মোংলায় এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

জলাতঙ্কের টিকাতেও সংকট, মন্ত্রী বললেন মজুদ আছে

ছবি : রয়টার্স

দেশে মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র চিত্র ও বিভ্রান্তি। একদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে টিকার ঘাটতির অভিযোগ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি—দেশে কোনো টিকার সংকট নেই।

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অ্যান্টি র‍্যাবিস ভ্যাকসিন এবং র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালগুলোতে সংকট, বাইরে কিনতে বাধ্য রোগীরা

বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে বহু মানুষ কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে টিকা নিতে আসলেও অনেক স্থানে সরকারি টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের বাইরে ফার্মেসি থেকে বাড়তি দামে টিকা কিনতে হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জের এক ভুক্তভোগী জানান, ৯০০ টাকা দিয়ে ফার্মেসি থেকে টিকা কিনতে হয়েছে, যা তার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বাজেট না থাকায় অনেক জায়গায় নিজস্ব ফান্ড থেকে সীমিত পরিমাণ টিকা কিনে রেশনিং করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছেন না।

আরআইজি টিকার সংকট বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টি র‍্যাবিস ভ্যাকসিন তুলনামূলকভাবে কিছুটা পাওয়া গেলেও র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। এই টিকা সাধারণত গুরুতর কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।

সরকারি ব্যবস্থাপনা ও বাফার স্টক নিয়ে উদ্বেগ

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, কিছু টিকার মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত বাফার স্টক নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাফার স্টক না থাকলে যেকোনো সংকটে বড় ধরনের টিকা ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন টিকার সংকটের বিষয়টি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, দেশে সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং কোথাও কোনো সংকট নেই।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে এবং কোনো রোগীকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থান

সরকারি হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞদের তথ্য যেখানে সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হচ্ছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ।

kalprakash.com/SS
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জলাতঙ্কের টিকাতেও সংকট, মন্ত্রী বললেন মজুদ আছে
জনপ্রিয় সংবাদ

‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’

জলাতঙ্কের টিকাতেও সংকট, মন্ত্রী বললেন মজুদ আছে

প্রকাশিত: ০২:০২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশে মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র চিত্র ও বিভ্রান্তি। একদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে টিকার ঘাটতির অভিযোগ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি—দেশে কোনো টিকার সংকট নেই।

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অ্যান্টি র‍্যাবিস ভ্যাকসিন এবং র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালগুলোতে সংকট, বাইরে কিনতে বাধ্য রোগীরা

বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে বহু মানুষ কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে টিকা নিতে আসলেও অনেক স্থানে সরকারি টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের বাইরে ফার্মেসি থেকে বাড়তি দামে টিকা কিনতে হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জের এক ভুক্তভোগী জানান, ৯০০ টাকা দিয়ে ফার্মেসি থেকে টিকা কিনতে হয়েছে, যা তার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বাজেট না থাকায় অনেক জায়গায় নিজস্ব ফান্ড থেকে সীমিত পরিমাণ টিকা কিনে রেশনিং করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছেন না।

আরআইজি টিকার সংকট বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টি র‍্যাবিস ভ্যাকসিন তুলনামূলকভাবে কিছুটা পাওয়া গেলেও র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। এই টিকা সাধারণত গুরুতর কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।

সরকারি ব্যবস্থাপনা ও বাফার স্টক নিয়ে উদ্বেগ

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, কিছু টিকার মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত বাফার স্টক নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাফার স্টক না থাকলে যেকোনো সংকটে বড় ধরনের টিকা ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন টিকার সংকটের বিষয়টি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, দেশে সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং কোথাও কোনো সংকট নেই।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে এবং কোনো রোগীকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থান

সরকারি হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞদের তথ্য যেখানে সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হচ্ছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ।

kalprakash.com/SS
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জলাতঙ্কের টিকাতেও সংকট, মন্ত্রী বললেন মজুদ আছে