বাংলাদেশ ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নওগাঁয় রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অফিসে রাস্তার সংস্কার কাজে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তাল মাহমুদ এবং দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কাজী রহমান।

জানা গেছে, উপজেলার ‘ভাগসুন্দর-বিশা’ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইডওয়াল নির্মাণে তিন নম্বর ইটের খোয়া ও মরিচা ধরা পুরোনো রড ব্যবহার করা হচ্ছে। নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহারের ফলে কাজ শুরুর ১৫ দিনেই দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। এমনকি গাইডওয়ালের নিচ থেকেই ৩০ ফুট গভীর করে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে বালি উত্তোলন করে সেই বালি দিয়েই রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সাংবাদিক উত্তাল মাহমুদ জানান, এই অনিয়ম নিয়ে গত তিন দিন ধরে উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমারের কাছে তথ্য চাইলেও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তথ্য দেবেন। বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে গিয়ে দেরির কারণ জানতে চাইলে অফিসের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক এমদাদ, অফিস সহকারী সালাম ও কম্পিউটার অপারেটর দীপ্ত হঠাৎ আমাদের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

সাংবাদিক কাজী রহমান বলেন, “ভদ্রভাবে কথা বলতে বললে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমাকে ‘চুপ কর’, ‘বের হয়ে যা’ বলে হুমকি দেয়। এমনকি দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, কোনো সংবাদকর্মী তথ্য চাইলে তাকে সহযোগিতা করা উচিত, এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি জেনেছি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয় জানতে চেয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরে তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা সুশাসন ও স্বচ্ছতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

নওগাঁয় রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তা

প্রকাশিত: ১০:৪৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অফিসে রাস্তার সংস্কার কাজে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তাল মাহমুদ এবং দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কাজী রহমান।

জানা গেছে, উপজেলার ‘ভাগসুন্দর-বিশা’ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইডওয়াল নির্মাণে তিন নম্বর ইটের খোয়া ও মরিচা ধরা পুরোনো রড ব্যবহার করা হচ্ছে। নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহারের ফলে কাজ শুরুর ১৫ দিনেই দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। এমনকি গাইডওয়ালের নিচ থেকেই ৩০ ফুট গভীর করে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে বালি উত্তোলন করে সেই বালি দিয়েই রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে পুরো গ্রাম বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সাংবাদিক উত্তাল মাহমুদ জানান, এই অনিয়ম নিয়ে গত তিন দিন ধরে উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমারের কাছে তথ্য চাইলেও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তথ্য দেবেন। বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে গিয়ে দেরির কারণ জানতে চাইলে অফিসের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক এমদাদ, অফিস সহকারী সালাম ও কম্পিউটার অপারেটর দীপ্ত হঠাৎ আমাদের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

সাংবাদিক কাজী রহমান বলেন, “ভদ্রভাবে কথা বলতে বললে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমাকে ‘চুপ কর’, ‘বের হয়ে যা’ বলে হুমকি দেয়। এমনকি দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, কোনো সংবাদকর্মী তথ্য চাইলে তাকে সহযোগিতা করা উচিত, এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি জেনেছি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয় জানতে চেয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরে তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা সুশাসন ও স্বচ্ছতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।