বাংলাদেশ ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

সুন্দরগঞ্জে অবৈধ ট্রাক্টরের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য: আতঙ্কে জনজীবন, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জনবহুল সড়কজুড়ে অবৈধ ট্রাক্টরের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বামনডাঙ্গার শিববাড়ী মোড় থেকে বন্দর চৌরাস্তা হয়ে সুইজগেট গাহমারী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে দিন-রাত নির্বিচারে চলাচল করছে বালু ও মাটিবোঝাই ট্রাক্টর, যার ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ধরনের ছোট যানবাহন চলাচল করে। অথচ সেই সড়কেই কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ট্রাক্টর। অধিকাংশ চালকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স; এমনকি অনেক চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতায় সাধারণ পথচারীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ বিষয়ে একাধিকবার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ট্রাক্টর মালিকদের অনৈতিক লেনদেন বা মাসোহারার সম্পর্ক রয়েছে, যার কারণে প্রকাশ্যে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে গেছে। ট্রাক্টরগুলো যেভাবে বেপরোয়া গতিতে চলে, মনে হয় রাস্তাটা যেন তাদের দখলে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না।”

একইভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক বাদল মিয়া। তিনি বলেন,
“প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র কাছেই, কিন্তু তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। আমরা কি বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছি?”

এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

সুন্দরগঞ্জে অবৈধ ট্রাক্টরের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য: আতঙ্কে জনজীবন, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

প্রকাশিত: ১০:১২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জনবহুল সড়কজুড়ে অবৈধ ট্রাক্টরের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বামনডাঙ্গার শিববাড়ী মোড় থেকে বন্দর চৌরাস্তা হয়ে সুইজগেট গাহমারী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে দিন-রাত নির্বিচারে চলাচল করছে বালু ও মাটিবোঝাই ট্রাক্টর, যার ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ধরনের ছোট যানবাহন চলাচল করে। অথচ সেই সড়কেই কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ ট্রাক্টর। অধিকাংশ চালকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স; এমনকি অনেক চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতায় সাধারণ পথচারীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ বিষয়ে একাধিকবার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ট্রাক্টর মালিকদের অনৈতিক লেনদেন বা মাসোহারার সম্পর্ক রয়েছে, যার কারণে প্রকাশ্যে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে গেছে। ট্রাক্টরগুলো যেভাবে বেপরোয়া গতিতে চলে, মনে হয় রাস্তাটা যেন তাদের দখলে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না।”

একইভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক বাদল মিয়া। তিনি বলেন,
“প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র কাছেই, কিন্তু তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। আমরা কি বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছি?”

এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।