বাংলাদেশ ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

কুলির টাকায় নির্মিত কাঠের সেতু, বদলে গেল কয়েক গ্রামের মানুষের জীবন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক কুলির ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বদলে দিয়েছে কয়েক গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সেতুটি এখন স্থানীয়দের জন্য স্বস্তির নতুন পথ হয়ে উঠেছে।

উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই প্রায় অসম্ভব এক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। প্রায় ২৫ বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, একটি মোটরসাইকেল ও একটি খাসি বিক্রির অর্থ, পাশাপাশি কিছু ঋণ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতদিন এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। সেটি ব্যবহার ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হতো।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দিনমজুরদের জন্য এই পথ ছিল চরম ভোগান্তির। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

নতুন নির্মিত কাঠের সেতুর কারণে এখন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিরাপদ ও সহজে চলাচল করতে পারছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গত শুক্রবার আব্দুল করিমের মায়ের হাত দিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সেতুর নিচে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা তার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আব্দুল করিম বলেন, “এখানকার রেল ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মানুষকে প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করতে দেখতাম। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। অনেক জনপ্রতিনিধি এলেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি। তাই অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এখানে একটি সেতু নির্মাণ করব। কুলির কাজের টাকা, মোটরসাইকেল বিক্রি, খাসি বিক্রি ও ঋণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি।”

স্থানীয়দের মতে, আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ শুধু একটি সেতু নির্মাণ নয়, বরং মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

কুলির টাকায় নির্মিত কাঠের সেতু, বদলে গেল কয়েক গ্রামের মানুষের জীবন

প্রকাশিত: ০৩:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক কুলির ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বদলে দিয়েছে কয়েক গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সেতুটি এখন স্থানীয়দের জন্য স্বস্তির নতুন পথ হয়ে উঠেছে।

উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই প্রায় অসম্ভব এক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। প্রায় ২৫ বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, একটি মোটরসাইকেল ও একটি খাসি বিক্রির অর্থ, পাশাপাশি কিছু ঋণ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতদিন এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু। সেটি ব্যবহার ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হতো।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দিনমজুরদের জন্য এই পথ ছিল চরম ভোগান্তির। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

নতুন নির্মিত কাঠের সেতুর কারণে এখন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিরাপদ ও সহজে চলাচল করতে পারছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গত শুক্রবার আব্দুল করিমের মায়ের হাত দিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সেতুর নিচে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা তার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আব্দুল করিম বলেন, “এখানকার রেল ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মানুষকে প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করতে দেখতাম। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটত। অনেক জনপ্রতিনিধি এলেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি। তাই অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এখানে একটি সেতু নির্মাণ করব। কুলির কাজের টাকা, মোটরসাইকেল বিক্রি, খাসি বিক্রি ও ঋণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছি।”

স্থানীয়দের মতে, আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ শুধু একটি সেতু নির্মাণ নয়, বরং মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ।

kalprakash.com/SS