বাংলাদেশ ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন Logo কুবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম Logo আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি, চীনের জাহাজগুলোকে সীমিত অনুমতি দিল ইরান Logo ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ঐকমত্য, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত Logo ঈদযাত্রায় ঝুঁকি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএর ১৬ দফা নির্দেশনা Logo ঈদের ছুটি পাবেন না যারা, কোন কোন পেশা থাকছে আওতার বাইরে Logo শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক জব্দ Logo বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো Logo ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় দ্বিধা, চুক্তির আগ্রহ থাকলেও আস্থার সংকট অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই চুক্তির কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে সমঝোতার পথ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই একদিকে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে, আবার অন্যদিকে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে চাপ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আলোচক দলকে ইসলামাবাদে নতুন দফা আলোচনায় পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আগের দেওয়া সময়সীমা বাড়ানো হয়, যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সময় বৃদ্ধিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতও রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই প্রকাশ্যে চুক্তির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেখালেও বাস্তবে অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণে দুই দেশই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে সেই আগ্রহ প্রকাশের বদলে চাপ তৈরির কৌশলই এখন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই “হাই-স্টেক দর কষাকষির” মতো, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত দেখিয়ে সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এতে আলোচনার অগ্রগতি যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি উত্তেজনাও বাড়ছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য একটি সমঝোতা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো কাঠামোর হতে পারে, তবে সেখানে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা, আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদার করা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুও এই আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান পাল্টাপাল্টি চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই পক্ষই প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে সমঝোতার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তবে আস্থার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে যুদ্ধের ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি—বরং দুই পথই এখন পাশাপাশি চলমান।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় দ্বিধা, চুক্তির আগ্রহ থাকলেও আস্থার সংকট অব্যাহত

প্রকাশিত: ০২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই চুক্তির কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে সমঝোতার পথ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই একদিকে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে, আবার অন্যদিকে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে চাপ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আলোচক দলকে ইসলামাবাদে নতুন দফা আলোচনায় পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আগের দেওয়া সময়সীমা বাড়ানো হয়, যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সময় বৃদ্ধিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতও রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই প্রকাশ্যে চুক্তির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেখালেও বাস্তবে অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণে দুই দেশই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে সেই আগ্রহ প্রকাশের বদলে চাপ তৈরির কৌশলই এখন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই “হাই-স্টেক দর কষাকষির” মতো, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত দেখিয়ে সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এতে আলোচনার অগ্রগতি যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি উত্তেজনাও বাড়ছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য একটি সমঝোতা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো কাঠামোর হতে পারে, তবে সেখানে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা, আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদার করা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুও এই আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান পাল্টাপাল্টি চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই পক্ষই প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে সমঝোতার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তবে আস্থার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে যুদ্ধের ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি—বরং দুই পথই এখন পাশাপাশি চলমান।

kalprakash.com/SS