বাংলাদেশ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’ Logo নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে সম্মানি ও পারিতোষিকের হার পুনর্নির্ধারণ Logo ইউএইর ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য এলো ৬ নতুন সুবিধা Logo বদর যুদ্ধের আয়াত তেলাওয়াত, আলোচনা কূটনৈতিক বার্তা Logo ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে দূতাবাসের মতবিনিময় সভা Logo হাওরের জন্য আগাম ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে: কৃষিমন্ত্রী Logo সার্টিফিকেটে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা বোর্ডের Logo সীমান্তে কথিত পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর তৎপরতায় ব্যর্থ Logo প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে গেছে ব্রিজের সংযোগ সড়ক, স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে পিআইও Logo মোংলায় এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় দ্বিধা, চুক্তির আগ্রহ থাকলেও আস্থার সংকট অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই চুক্তির কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে সমঝোতার পথ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই একদিকে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে, আবার অন্যদিকে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে চাপ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আলোচক দলকে ইসলামাবাদে নতুন দফা আলোচনায় পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আগের দেওয়া সময়সীমা বাড়ানো হয়, যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সময় বৃদ্ধিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতও রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই প্রকাশ্যে চুক্তির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেখালেও বাস্তবে অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণে দুই দেশই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে সেই আগ্রহ প্রকাশের বদলে চাপ তৈরির কৌশলই এখন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই “হাই-স্টেক দর কষাকষির” মতো, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত দেখিয়ে সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এতে আলোচনার অগ্রগতি যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি উত্তেজনাও বাড়ছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য একটি সমঝোতা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো কাঠামোর হতে পারে, তবে সেখানে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা, আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদার করা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুও এই আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান পাল্টাপাল্টি চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই পক্ষই প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে সমঝোতার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তবে আস্থার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে যুদ্ধের ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি—বরং দুই পথই এখন পাশাপাশি চলমান।

kalprakash.com/SS

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় দ্বিধা, চুক্তির আগ্রহ থাকলেও আস্থার সংকট অব্যাহত
জনপ্রিয় সংবাদ

‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় দ্বিধা, চুক্তির আগ্রহ থাকলেও আস্থার সংকট অব্যাহত

প্রকাশিত: ০২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই চুক্তির কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে সমঝোতার পথ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই একদিকে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে, আবার অন্যদিকে কঠোর অবস্থান ধরে রেখে চাপ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আলোচক দলকে ইসলামাবাদে নতুন দফা আলোচনায় পাঠানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে আগের দেওয়া সময়সীমা বাড়ানো হয়, যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সময় বৃদ্ধিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতও রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই প্রকাশ্যে চুক্তির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেখালেও বাস্তবে অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণে দুই দেশই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে সেই আগ্রহ প্রকাশের বদলে চাপ তৈরির কৌশলই এখন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই “হাই-স্টেক দর কষাকষির” মতো, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত দেখিয়ে সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের চেষ্টা করছে। এতে আলোচনার অগ্রগতি যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি উত্তেজনাও বাড়ছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, সম্ভাব্য একটি সমঝোতা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো কাঠামোর হতে পারে, তবে সেখানে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা, আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদার করা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় থাকতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুও এই আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান পাল্টাপাল্টি চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই পক্ষই প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে সমঝোতার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তবে আস্থার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে যুদ্ধের ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি—বরং দুই পথই এখন পাশাপাশি চলমান।

kalprakash.com/SS

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনায় দ্বিধা, চুক্তির আগ্রহ থাকলেও আস্থার সংকট অব্যাহত