বাংলাদেশ ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বেরোবির হলে চুরি, ৫ নিরাপত্তা প্রহরীকে বদলি

ছবিঃ সংগৃহীত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহীদ মুখতার ইলাহী হলে একের পর এক চুরির ঘটনায় পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরীকে বদলি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করি। এছাড়া হলে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নিরাপত্তা কর্মী পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে তারা এ পরিবর্তন আনেন।

সম্প্রতি হলে প্রায় দেড় লাখ টাকার একটি সুইচ, ডাইনিংয়ের কড়াই, চাল ও তেল চুরির অভিযোগ ওঠে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনাও ঘটে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রতিটি ঘটনায় নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান।

সুইচ চুরির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ মার্চ রাত পৌনে ১০টার দিকে হলের ইন্টারনেট সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিরাপত্তা প্রহরীদের জানালে পরদিন আইসিটি সেলের টেকনিশিয়ান এসে দেখেন, দ্বিতীয় তলার সংযোগ বক্স থেকে একটি সুইচ চুরি হয়েছে। ঘটনার পরদিন সন্ধ্যায় হলের নিচতলার ১০২ নম্বর কক্ষের সামনে একটি পুরোনো লুঙ্গিতে মোড়ানো অবস্থায় সুইচটি উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্বে থাকলেও কয়েকজন নিরাপত্তা প্রহরী নির্ধারিত স্থানে ছিলেন না। বিশেষ করে মো. শাহীন বেগ ডিউটির অনেক আগে হলে প্রবেশ করে বিভিন্ন তলায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। অন্যদিকে মো. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্বের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। প্রহরীদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি ঘটনার সময় হলের প্রধান ফটকও অরক্ষিত ছিল।

তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার কারণে মো. শাহীন বেগ ও মো. আব্দুর রাজ্জাককে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে হলের বর্তমান জনবল পরিবর্তন করে দক্ষ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, উন্নত মানের সিসিটিভি স্থাপন এবং ইন্টারনেট বক্সে নিরাপদ লকিং সিস্টেম নিশ্চিত করার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।

বদলি হওয়া পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরী হলেন মো. মুর্তজা আলী, মো. মজিদ সরকার, মো. রাজ্জাক মিয়া, মো. শাহীন বেগ এবং মো. মনোয়ার হোসেন প্লাবন। তাদেরকে আবাসিক হল থেকে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা শাখায় বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে তাদের পরিবর্তে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা শাখা থেকে আবাসিক শহীদ মুখতার ইলাহী হলে দায়িত্বে এসেছেন মো. নাজমুল হক, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুল ওয়াহেদ শামীম, মো. মাহমুদ আলম টিপু এবং মো. আনিসুল হক।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবির হলে চুরি, ৫ নিরাপত্তা প্রহরীকে বদলি

প্রকাশিত: ১২:০৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহীদ মুখতার ইলাহী হলে একের পর এক চুরির ঘটনায় পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরীকে বদলি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করি। এছাড়া হলে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নিরাপত্তা কর্মী পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে তারা এ পরিবর্তন আনেন।

সম্প্রতি হলে প্রায় দেড় লাখ টাকার একটি সুইচ, ডাইনিংয়ের কড়াই, চাল ও তেল চুরির অভিযোগ ওঠে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনাও ঘটে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রতিটি ঘটনায় নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান।

সুইচ চুরির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ মার্চ রাত পৌনে ১০টার দিকে হলের ইন্টারনেট সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিরাপত্তা প্রহরীদের জানালে পরদিন আইসিটি সেলের টেকনিশিয়ান এসে দেখেন, দ্বিতীয় তলার সংযোগ বক্স থেকে একটি সুইচ চুরি হয়েছে। ঘটনার পরদিন সন্ধ্যায় হলের নিচতলার ১০২ নম্বর কক্ষের সামনে একটি পুরোনো লুঙ্গিতে মোড়ানো অবস্থায় সুইচটি উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্বে থাকলেও কয়েকজন নিরাপত্তা প্রহরী নির্ধারিত স্থানে ছিলেন না। বিশেষ করে মো. শাহীন বেগ ডিউটির অনেক আগে হলে প্রবেশ করে বিভিন্ন তলায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। অন্যদিকে মো. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্বের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। প্রহরীদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি ঘটনার সময় হলের প্রধান ফটকও অরক্ষিত ছিল।

তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার কারণে মো. শাহীন বেগ ও মো. আব্দুর রাজ্জাককে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে হলের বর্তমান জনবল পরিবর্তন করে দক্ষ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, উন্নত মানের সিসিটিভি স্থাপন এবং ইন্টারনেট বক্সে নিরাপদ লকিং সিস্টেম নিশ্চিত করার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।

বদলি হওয়া পাঁচ নিরাপত্তা প্রহরী হলেন মো. মুর্তজা আলী, মো. মজিদ সরকার, মো. রাজ্জাক মিয়া, মো. শাহীন বেগ এবং মো. মনোয়ার হোসেন প্লাবন। তাদেরকে আবাসিক হল থেকে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা শাখায় বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে তাদের পরিবর্তে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা শাখা থেকে আবাসিক শহীদ মুখতার ইলাহী হলে দায়িত্বে এসেছেন মো. নাজমুল হক, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুল ওয়াহেদ শামীম, মো. মাহমুদ আলম টিপু এবং মো. আনিসুল হক।