বাংলাদেশ ০৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বিএনপির এমপি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা Logo ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক Logo চীনা স্যাটেলাইটে ইরানের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা বেড়েছে বলে দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া হবে’—তারেক রহমান Logo চিতলমারীতে ১৫ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দিতে মাঠে নামল স্বাস্থ্য বিভাগ Logo পোশাক খাতে পডকাস্ট সিরিজ চালু করল বিজিএমইএ Logo বাংলাদেশে ১ কোটি ৫৩ লাখ ভিডিও সরাল টিকটক, কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের কারণে অপসারণ Logo সাংবাদিকের ডাকে ক্ষুব্ধ শ্রুতি হাসান, বললেন ‘আমি আপনার মা নাকি?’ Logo জুহি চাওলাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সালমান খান, পুরোনো সাক্ষাৎকার ফের আলোচনায় Logo প্রচণ্ড মাথাব্যথায় রাসুল (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন

“প্রশাসনহীন নালিতাবাড়ী: উন্নয়ন থেমে, ভোগান্তি বেড়ে”

ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলো শূন্য থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকৌশলী এবং পৌর প্রশাসক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা থাকায় পুরো উপজেলায় কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল থেকে উপজেলা প্রকৌশলীর পদ এবং ৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ইউএনওর পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বেও কার্যকর কোনো কর্মকর্তা না থাকায় পৌরসভার দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

যদিও পাশ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ইউএনওকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবে নালিতাবাড়ীতে তার কার্যকর উপস্থিতি না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থেমে আছে বা ধীরগতিতে চলছে। বিল অনুমোদন না পাওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে সরকারের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে পৌরসভার নাগরিক সেবাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সের মতো জরুরি সেবা পেতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকেই দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছোট ছোট কাজের জন্যও উপজেলা বা পৌর কার্যালয়ে গিয়ে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। এতে সময় ও অর্থ—দুটোরই অপচয় হচ্ছে এবং বাড়ছে হয়রানি।

সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার এই প্রশাসনিক শূন্যতা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে জনসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনওর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির এমপি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা

“প্রশাসনহীন নালিতাবাড়ী: উন্নয়ন থেমে, ভোগান্তি বেড়ে”

প্রকাশিত: ০৩:০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলো শূন্য থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকৌশলী এবং পৌর প্রশাসক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা থাকায় পুরো উপজেলায় কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল থেকে উপজেলা প্রকৌশলীর পদ এবং ৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ইউএনওর পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বেও কার্যকর কোনো কর্মকর্তা না থাকায় পৌরসভার দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

যদিও পাশ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ইউএনওকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবে নালিতাবাড়ীতে তার কার্যকর উপস্থিতি না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থেমে আছে বা ধীরগতিতে চলছে। বিল অনুমোদন না পাওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে সরকারের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে পৌরসভার নাগরিক সেবাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সের মতো জরুরি সেবা পেতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকেই দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছোট ছোট কাজের জন্যও উপজেলা বা পৌর কার্যালয়ে গিয়ে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। এতে সময় ও অর্থ—দুটোরই অপচয় হচ্ছে এবং বাড়ছে হয়রানি।

সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার এই প্রশাসনিক শূন্যতা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে জনসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনওর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।