বাংলাদেশ ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রামগঞ্জ উন্নয়ন বিতর্কে মুখোমুখি মাহফুজ আলম ও এমপি সেলিম

ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন ইস্যু ও সংসদে আলোচিত ‘আকুতি’ প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ আলম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপ ও সিদ্ধান্তের কারণে তিনি নিজ এলাকায় কোনো উন্নয়ন সহযোগিতা পাননি। তিনি জানান, রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অন্তত চার থেকে পাঁচজন উপদেষ্টার সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং ডিও লেটার প্রদান করেছেন, কিন্তু তাতে কোনো কার্যকর ফল আসেনি।

তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক দলের চাপে বা সিদ্ধান্তে তারা আমার এলাকায় কিংবা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি। সংসদে ‘আকুতি’ প্রসঙ্গে হাসনাতের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, হাসনাত বলেছেন এলাকায় মুখ দেখাতে পারবেন না। আর আমার মুখটা ঢেকে দিয়েছিলেন আমার সহকর্মীরা—খোদা তাঁদের মঙ্গল করুন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আলম বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচলিত হিসাব-নিকাশের বাইরেও অনেক অপ্রকাশিত বাস্তবতা রয়েছে।

একই পোস্টে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে মাদ্রাসায় তিনি আট বছর পড়াশোনা করেছেন এবং তার বাবা প্রায় ১৫ বছর পরিচালনা করেছেন, সেটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এর পেছনে রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দায়ী করেন তিনি। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি লেখেন, আমি তো ‘অযোগ্য’ উপদেষ্টাই বটে! আর সে রাজনৈতিক দল নাকি ক্ষমতায় ছিল না—হাহা, পায় যে হাসি!

এদিকে, মাহফুজ আলমের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এখন রাজনৈতিক চাপের গল্প বলা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো—তার হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা ও সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি রামগঞ্জের জন্য দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি।

এর আগে এক বক্তব্যে এমপি সেলিম দাবি করেন, মাহফুজ আলমকে তিনি আগে চিনতেন না, তবে তার বাবা স্থানীয়ভাবে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশেষ সহকারী হওয়ার পর মাহফুজ আলমের আচরণে পরিবর্তন আসে এবং এক বৈঠকে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়, যা তাকে বিব্রত করেছে।

রামগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এমপি সেলিম বলেন, রামগঞ্জের মানুষ এখনো প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। কথার ফুলঝুরি বা অজুহাত দিয়ে বাস্তবতা আড়াল করা যাবে না।

মাহফুজ আলমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য এবং এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিমের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—দুই পক্ষের এই অবস্থান রামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করেছে। উন্নয়ন বঞ্চনা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগঞ্জ উন্নয়ন বিতর্কে মুখোমুখি মাহফুজ আলম ও এমপি সেলিম

প্রকাশিত: ০৪:২৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন ইস্যু ও সংসদে আলোচিত ‘আকুতি’ প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ আলম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপ ও সিদ্ধান্তের কারণে তিনি নিজ এলাকায় কোনো উন্নয়ন সহযোগিতা পাননি। তিনি জানান, রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অন্তত চার থেকে পাঁচজন উপদেষ্টার সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং ডিও লেটার প্রদান করেছেন, কিন্তু তাতে কোনো কার্যকর ফল আসেনি।

তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক দলের চাপে বা সিদ্ধান্তে তারা আমার এলাকায় কিংবা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি। সংসদে ‘আকুতি’ প্রসঙ্গে হাসনাতের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, হাসনাত বলেছেন এলাকায় মুখ দেখাতে পারবেন না। আর আমার মুখটা ঢেকে দিয়েছিলেন আমার সহকর্মীরা—খোদা তাঁদের মঙ্গল করুন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আলম বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচলিত হিসাব-নিকাশের বাইরেও অনেক অপ্রকাশিত বাস্তবতা রয়েছে।

একই পোস্টে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে মাদ্রাসায় তিনি আট বছর পড়াশোনা করেছেন এবং তার বাবা প্রায় ১৫ বছর পরিচালনা করেছেন, সেটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এর পেছনে রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দায়ী করেন তিনি। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি লেখেন, আমি তো ‘অযোগ্য’ উপদেষ্টাই বটে! আর সে রাজনৈতিক দল নাকি ক্ষমতায় ছিল না—হাহা, পায় যে হাসি!

এদিকে, মাহফুজ আলমের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এখন রাজনৈতিক চাপের গল্প বলা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো—তার হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা ও সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি রামগঞ্জের জন্য দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি।

এর আগে এক বক্তব্যে এমপি সেলিম দাবি করেন, মাহফুজ আলমকে তিনি আগে চিনতেন না, তবে তার বাবা স্থানীয়ভাবে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশেষ সহকারী হওয়ার পর মাহফুজ আলমের আচরণে পরিবর্তন আসে এবং এক বৈঠকে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়, যা তাকে বিব্রত করেছে।

রামগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এমপি সেলিম বলেন, রামগঞ্জের মানুষ এখনো প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। কথার ফুলঝুরি বা অজুহাত দিয়ে বাস্তবতা আড়াল করা যাবে না।

মাহফুজ আলমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য এবং এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিমের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—দুই পক্ষের এই অবস্থান রামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করেছে। উন্নয়ন বঞ্চনা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।