বাংলাদেশ ১২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

চিতলমারীতে একমাত্র ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার নালুয়া বাজারে অবস্থিত মেসার্স জয় ফিলিং স্টেশনে বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে সীমিত পরিসরে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হয়। চিতলমারী থানা পুলিশের উপস্থিতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকেই তেল সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই ব্যক্তিগত ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।

পপুলার ফার্মার কর্মচারী বাবুলাল বাড়ৈ বলেন, আমি সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন প্রায় ৯টা বাজে, এখনও নিশ্চিত নই তেল পাব কি না। প্রতিবারই এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

জিবিডি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের পাশ্ববর্তী উপজেলা মোল্লাহাটে একাধিক ফিলিং স্টেশন রয়েছে। কিন্তু চিতলমারীতে মাত্র একটি পাম্প থাকায় চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যায় না। যদি সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হতো, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেকটা কমে যেত।

অপর শিক্ষক মো. আজম আলী বলেন, প্রতি সপ্তাহে মাত্র একদিন তেল সরবরাহ করা হয়। সরবরাহ আরও বাড়ানো হলে এই দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসত।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলামিন হোসেন ও গুলজার শেখ অভিযোগ করে বলেন, চাহিদার তুলনায় খুব কম পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানাই, এই পাম্পে যেন তেলের বরাদ্দ বাড়ানো হয়।

চিতলমারী থানার এসআই লিটন বিশ্বাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সবাইকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করছি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। বর্তমানে পাম্পে প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল মজুদ রয়েছে। যতক্ষণ তেল থাকবে এবং যানবাহন থাকবে, ততক্ষণ সবাইকে তেল সরবরাহ করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, চিতলমারীতে ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রায়ই এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

চিতলমারীতে একমাত্র ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: ১০:০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার নালুয়া বাজারে অবস্থিত মেসার্স জয় ফিলিং স্টেশনে বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে সীমিত পরিসরে পেট্রোল সরবরাহ শুরু হয়। চিতলমারী থানা পুলিশের উপস্থিতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকেই তেল সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই ব্যক্তিগত ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।

পপুলার ফার্মার কর্মচারী বাবুলাল বাড়ৈ বলেন, আমি সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন প্রায় ৯টা বাজে, এখনও নিশ্চিত নই তেল পাব কি না। প্রতিবারই এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

জিবিডি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের পাশ্ববর্তী উপজেলা মোল্লাহাটে একাধিক ফিলিং স্টেশন রয়েছে। কিন্তু চিতলমারীতে মাত্র একটি পাম্প থাকায় চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যায় না। যদি সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হতো, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেকটা কমে যেত।

অপর শিক্ষক মো. আজম আলী বলেন, প্রতি সপ্তাহে মাত্র একদিন তেল সরবরাহ করা হয়। সরবরাহ আরও বাড়ানো হলে এই দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসত।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলামিন হোসেন ও গুলজার শেখ অভিযোগ করে বলেন, চাহিদার তুলনায় খুব কম পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানাই, এই পাম্পে যেন তেলের বরাদ্দ বাড়ানো হয়।

চিতলমারী থানার এসআই লিটন বিশ্বাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সবাইকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করছি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। বর্তমানে পাম্পে প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল মজুদ রয়েছে। যতক্ষণ তেল থাকবে এবং যানবাহন থাকবে, ততক্ষণ সবাইকে তেল সরবরাহ করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, চিতলমারীতে ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রায়ই এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।