বাংলাদেশ ০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ৬৬ কর্মদিবসে ১,২৬৬ মাদক কারবারি ও সেবনকারী গ্রেফতার: পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ Logo পাবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগের নবীনবরণ ও পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন Logo নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নিজেই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায় Logo বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ বাঁচাতে না পারলে ঢাকা রক্ষা সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান Logo হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সমঝোতার আহ্বান ওমানের Logo হরমুজের পর আরও রপ্তানি করিডোর বন্ধের হুমকি আইআরজিসির Logo ১৫ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, যেভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে জুলাই আন্দোলন Logo আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, ম্যাচের ভাগ্য গড়বেন কি মেসি?

হরমুজের পর আরও রপ্তানি করিডোর বন্ধের হুমকি আইআরজিসির

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাতের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ অবরোধের পর এবার আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য লাভজনক বিশ্বের অন্যান্য রপ্তানি করিডোরও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ অবরোধের কারণে আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো সবার জন্যই বন্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীও বন্ধ থাকবে।

শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান শুধু হরমুজ প্রণালী বন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব-এল-মানদেব প্রণালীও বন্ধ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটি ঘটলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথ একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন একটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

বাব-এল-মানদেব প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনের সমর্থনে হুথি বিদ্রোহীরা এ রুটে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহনের ওপর ইরানের সর্বশেষ এই হুমকি এসেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক এক ঘোষণার পর। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে আনতে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালী ও ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের কাছে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা সাত ঘণ্টা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও সামরিক হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, নৌবাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: ডন

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৬ কর্মদিবসে ১,২৬৬ মাদক কারবারি ও সেবনকারী গ্রেফতার: পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ

হরমুজের পর আরও রপ্তানি করিডোর বন্ধের হুমকি আইআরজিসির

প্রকাশিত: ০১:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাতের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ অবরোধের পর এবার আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য লাভজনক বিশ্বের অন্যান্য রপ্তানি করিডোরও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ অবরোধের কারণে আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো সবার জন্যই বন্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীও বন্ধ থাকবে।

শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান শুধু হরমুজ প্রণালী বন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব-এল-মানদেব প্রণালীও বন্ধ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটি ঘটলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথ একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন একটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

বাব-এল-মানদেব প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ফিলিস্তিনের সমর্থনে হুথি বিদ্রোহীরা এ রুটে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহনের ওপর ইরানের সর্বশেষ এই হুমকি এসেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক এক ঘোষণার পর। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে আনতে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালী ও ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের কাছে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা সাত ঘণ্টা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও সামরিক হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, নৌবাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: ডন

kalprakash.com/IM