বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে ফাইনালের একটি টিকিট। ইতিহাস, আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ম্যাচটি ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রধান ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ১০ নম্বর জার্সিধারী এই তারকা মূলত আক্রমণভাগে খেললেও খেলার ছন্দ তৈরি ও সুযোগ সৃষ্টি করাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে ইংল্যান্ড চাইবে শক্তিশালী রক্ষণ ও সংগঠিত ফুটবলের মাধ্যমে মেসিকে আটকে দিতে।
ইতিহাসের পাতায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৬৬ সালে আন্তোনিও রাত্তিন, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যাম—এই নামগুলো দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ম্যারাডোনার দুটি গোল ফুটবল ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে। একটি ছিল হ্যান্ড অব গড নামে পরিচিত বিতর্কিত গোল, অন্যটি শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একক নৈপুণ্যের গোল। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এরপর ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে সেটিই দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ।
মেসিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা
চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল স্কালোনির দল প্রায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়েই খেলছে। দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তাকে সহায়তা করছেন জুলিয়ান আলভারেজ।
মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ভারসাম্য ও সৃজনশীলতা এনে দিয়েছেন। আর গোলপোস্টে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বড় ম্যাচ ও টাইব্রেকারে নিজের দক্ষতার প্রমাণ আগেই দিয়েছেন।
স্কালোনির দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে মেসির কাছে বল পৌঁছে দেওয়া। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণে খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতেও দক্ষ আর্জেন্টিনা।
ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও সেটপিসনির্ভর ফুটবলের জন্য পরিচিত। তবে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মেসিকে জায়গা না দেওয়া।
জন স্টোনস, মার্ক গেহি ও ডেক্লান রাইসকে মেসির তৈরি করা ফাঁকা জায়গাগুলো কার্যকরভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে জুলিয়ান আলভারেজের দৌড় ও মুভমেন্ট সামলানোও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আর্জেন্টিনা যদি মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং মেসিকে দুই লাইনের মাঝখানে বল দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের দিকেই ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড যদি মেসিকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সক্ষম হয়, তবে ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে।
ইতিহাস, বর্তমান ফর্ম এবং দুই দলের তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে এক রোমাঞ্চকর লড়াই।
kalprakash.com/IM
অনলাইন ডেস্ক 























