২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আগামী বছরের এই পরীক্ষায় তিনটি সিলেবাসে পড়াশোনা করা তিন বর্ষের পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। এর মধ্যে একটি নিয়মিত এবং দুটি অনিয়মিত বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
ফরম পূরণের জন্য পরীক্ষার্থীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে অন্তত ৬টি নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি জরুরি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ফরম পূরণসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পাঠ্যসূচিতে বলা হয়েছে, অনিয়মিত বা মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। আর নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আগে একটি বর্ষের সিলেবাসে অনিয়মিত বা মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেত। এবার এসএসসিতে দুটি বর্ষের শিক্ষার্থীরা আলাদা সিলেবাসে এ সুযোগ পাচ্ছে।’
এর আগে ২০২৫ সালের পাঠ্যসূচিতে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার্থীরা (নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। আর ২০২৬ সালের পাঠ্যসূচিতে বলা হয়, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
এবারের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়সমূহে এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে। ব্যবহারিক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের হাতে লেখা মূল নম্বর ফর্দ মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় হাতে হাতে জমা দিতে হবে।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ ৫.০০-এর কম পেয়েছেন, এমন পরীক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ উন্নয়নের জন্য অংশ নিতে পারবেন। তাঁদের সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ২০২৬ সালের সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হবে। ২০২৭ সালের পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ উন্নয়ন হলে তা গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় আগের জিপিএ বহাল থাকবে। জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীকে আগের পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি প্রিন্ট কপির সঙ্গে জমা দিতে হবে।
বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে বলা হয়েছে, শাস্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে থাকলে এবং রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে তাঁরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। তাঁদের সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।
২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ সালের রেজিস্ট্রেশনধারী পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে থাকলে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২০২৭ সালে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন। আর ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ সালের রেজিস্ট্রেশনধারী যেসব পরীক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশগ্রহণ করে চতুর্থ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আগের অকৃতকার্য বিষয় বা বিষয়সমূহে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা পাবেন।
জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী এবং যাঁরা ইতোমধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁদের ছাড়া অন্য সব শিক্ষার্থীর জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
kalprakash.com/IM