কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে আটজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের স্বজন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম আবর্তনের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকারের একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে জবির ১৫তম আবর্তনের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলাও রয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকতে অবস্থিত টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। এ ছাড়া নাফিজ ও নাবিলার নামও স্বজনদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের সবার পরিচয় নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রয়োজন।
জবি শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকার জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাঁর পরিবারের ছয় সদস্য মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর চারজন মেয়ে কাজিন, একজন ছেলে কাজিন এবং এক মেয়ে কাজিনের ছোট সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও তাঁদের আত্মীয়। তাঁরা তাঁর মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।
আহাদ আরও জানান, এ ঘটনায় তাঁদের পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার, স্বজন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
kalprakash.com/IM