জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা কেশরতা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর এবং শূন্য পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন বলাই মুখোপাধ্যায়।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর দেওয়া ওই পোস্টটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক বলেছেন, তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এসব প্রচার করা হচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টে বলাই মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটি ও সভাপতি না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, সাবেক সভাপতি সাফি রাইহানকে প্রভাবিত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও আয়া—এই চারটি পদ শূন্য থাকার কথা উল্লেখ করে পোস্টে অভিযোগ করা হয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা মো. এনামুলের স্ত্রী মোছা. আনগুয়ারা বেগম এবং অফিস সহায়ক পদে তাঁর শ্যালক মো. মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অতীতের তারিখ ব্যবহার করে গোপনে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়।
তবে ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিয়োগসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত, অনুমোদন বা নথিপত্রের মাধ্যমেও অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে বাইরে থাকি। সব সময় ক্লাস করা সম্ভব হয় না। বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে সময় দিতে হয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাক্ষর করা হয় না।’
নিয়োগ-বাণিজ্য ও ফেসবুকে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষ এসব পোস্ট দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কুমার সাহার সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি এইমাত্র জানলাম। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাইয়ের পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
kalprakash.com/IM