মন্ত্রণালয় জানায়, কায়রো থেকে আসা একটি বিমানের অবতরণের কয়েক মিনিট আগে এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরে কর্তৃপক্ষ বিমানটির অবতরণ বাতিল করে সেটিকে জেদ্দায় পাঠিয়ে দেয়। আরও হামলার আশঙ্কায় রানওয়েতে থাকা দুটি বিমানকেও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলার বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের এলাকাগুলোর জন্য এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
একই সময়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। জোটটি আরও জানায়, হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী একটি যান তারা শনাক্ত করেছে এবং সেটি ধ্বংসের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁদের গোষ্ঠী কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে বিমানবন্দরটিতে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করার পর বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই এসব হামলার ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করেছিল।
সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও মোচা শহরের আশপাশের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকা পুনরুদ্ধারে এ সপ্তাহে ঝটিকা অভিযান শুরু করে। এর মাধ্যমে গত মাসে হুথিদের দখলে যাওয়া কয়েকটি এলাকা থেকে তাদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ধেয়ে আসা হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
পৃথক এক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি জানান, হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। খামিস মুশাইতের কাছে জোটের প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে এই হামলার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ আবহা বিমানবন্দরে হামলার বিষয়টিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সূত্র: আল জাজিরা
kalprakash.com/IM