অতিরিক্ত ফি আদায়, টিফিন ও বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ নানা অভিযোগে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কেও অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন অভিভাবকেরাও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত। তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
পরে শিক্ষার্থীরা আগামী তিন দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন। এ সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তাঁরা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তাঁদের দাবি, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে বোর্ড নির্ধারিত ফি যথাক্রমে ২৩৩ ও ২৮২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ ও ৪০০ টাকা। এ ছাড়া নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের নির্ধারিত ফি ৯৮ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।
অভিযোগকারীরা জানান, বার্ষিক ভোজ ও টিফিনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মানসম্মত টিফিন দেওয়া হয় না। তাঁদের অভিযোগ, ৯ টাকা ৫০ পয়সা মূল্যের টিফিন কিনে ভাউচারে ১৮ টাকা দেখানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রের জন্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও দুই বছর পার হয়ে গেলেও তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের আইসিটি ফান্ডে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্রীড়া ফান্ডে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এসব খাতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত পাঁচ বছর ধরে ম্যাগাজিন প্রকাশনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও কোনো ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। টয়লেটও অপরিষ্কার থাকে। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত দুটি ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাঁদের।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘হয়তো কেউ ভুল তথ্য উপস্থাপন করিয়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করা না হলে পুনরায় আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
kalprakash.com/IM