গুনাহ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত হলেও এটি মূলত ফারসি শব্দ। বাংলায় গুনাহের সমার্থক হিসেবে পাপ শব্দও ব্যবহৃত হয়। বাংলা অভিধানে এর অর্থ দেওয়া হয়েছে অন্যায়, কলুষ, দুষ্কৃতি ইত্যাদি।
আরবিতে গুনাহ বোঝানোর জন্য বিভিন্ন পরিভাষা রয়েছে, যেমন আল ইছম, আল খাত্বা, আল খাত্বিআহ, আল মাসিয়াহ, আল জুর্ম, আয্ জায়্ব ইত্যাদি। মূলত এগুলো নির্দেশ করে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুলের আদেশ না মানা বা নিষেধিত কাজ করা, প্রকাশ্য বা গোপনে।
একজন মুমিনের জন্য সবসময় অন্তরকে পাপমুক্ত রাখা জরুরি। আল্লাহ ইউসুফ (আ.)-এর ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ প্রাকৃতিকভাবে মন্দপ্রবণ, কিন্তু যারা আল্লাহর দয়া পায়, তারা ক্ষমাশীল ও দয়াবান। সুতরাং অন্তরকে পাপের কলুষ থেকে মুক্ত রাখা প্রয়োজন।
রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন তার গুনাহগুলোকে এমনভাবে বড় মনে করে যেন সে একটি পর্বতের নিচে বসে আছে, ভয় পায় যে পর্বতটি তার ওপর ধসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মতো মনে করে, যা তার নাকের ওপর দিয়ে চলে যায়।
অন্য হাদিসে এসেছে, ছোট ছোট গুনাহও ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাই গিবত, হিংসা, মিথ্যা, মা-বাবার অবাধ্যতা, খেয়ানত, অন্যের মর্যাদা হরণ ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।
ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ছোট গুনাহ এক এক করে জমা হয় এবং মৃত্যুর সময় বড় ক্ষতির কারণ হয়। ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহ.) বলেন, গুনাহ দুনিয়া ও আখিরাতে দেহ-মন উভয়ের জন্য ক্ষতিকর, যেমন ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া, রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয়া, একাকিত্ব অনুভব করা।
আনাস বিন মালিক (রা.) বলেছেন, অনেক পাপ আমাদের কাছে নগণ্য মনে হলেও তা মহাপাপ। সাহাবিরা সামান্য পাপও করলে তা থেকে মুক্তি পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন। উদাহরণ হিসেবে আবু বকর (রা.) একবার বিতর্কে অনিচ্ছাকৃত পাপ করলে তা থেকে মুক্তি পেতে রাসুল (সা.)-র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন।
সুতরাং গুনাহ কখনোই ছোট নয়। প্রতিটি পাপকে গুরুত্ব দিয়ে তুচ্ছজ্ঞান না করে এ থেকে বিরত থাকা ও অনুতপ্ত হওয়া ঈমানের চর্চার অংশ।
kalprakash.com/SS
কাল প্রকাশ 























