গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই) বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে নারীদের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ব্লেজ ও আগামী বছরের উইমেনস সুপার-৫০ প্রতিযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে।
সিডব্লিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডিয়ারিং এক বিবৃতিতে জানান, চরম আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বোর্ডকে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটারদের চুক্তির মেয়াদ ১২ মাস থেকে কমিয়ে সাত মাস করা হয়েছে।
পরিচালন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপের কারণে নারীদের প্রধান ঘরোয়া প্রতিযোগিতা টি-টোয়েন্টি ব্লেজ এবং আগামী বছরের উইমেনস সুপার-৫০ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নারী ক্রিকেটারদের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু রাখতে আগামী বছর একটি ‘বেস্ট ভার্সেস বেস্ট’ ডেভেলপমেন্ট টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের বাছাইপর্বকে সামনে রেখে পৃথক কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। তবে এসব আয়োজনের ব্যয় সিডব্লিউআই বহন করবে না। সংশ্লিষ্ট ক্যারিবীয় দেশের ক্রিকেট বোর্ড, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকদের এই ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
সিডব্লিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী জানান, ঘরোয়া দলগুলোর যাতায়াত, হোটেল ও ম্যাচ ফির পুরো ব্যয় এখন আর বোর্ডের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ১৫ বছরে শুধু ঘরোয়া বিমান ভ্রমণের পেছনেই ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে।
তবে সংকট মোকাবিলায় বোর্ডের নেওয়া সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ক্রিকেটাররা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তারা বেতন ও চুক্তির মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিডব্লিউআই।