বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ায় দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার সকাল ৬টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। তখন এর কেন্দ্র ছিল ১৮ দশমিক ১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। মোংলা বন্দর থেকে এর অবস্থান ছিল ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সময় তা ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা ও নদীবিধৌত এলাকায় নৌযান চলাচল, মাছ ধরা এবং স্বাভাবিক জনজীবনে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্তমান সতর্কবার্তায় বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতই বহাল রয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলে ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী সরকারি সতর্কবার্তার প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
kalprakash.com/IM