পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ব্যবসার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এ ঘটনায় জড়িত নিহতের তিন প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোববার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গা মাজগ্রামের দুলাল প্রামাণিকের ছেলে মনসুর আলী (৩৪), আবু সামাদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (৪০) এবং হুমিস আলী মোল্লার ছেলে আকাশ মোল্লা (২৯)। তারা সবাই নিহত আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের মিয়াপুর মিনারপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অবিবাহিত হওয়ায় ব্যবসায়ের নগদ টাকা তিনি সাধারণত নিজের কাছেই রাখতেন। এই তথ্যটি আগে থেকেই তার প্রতিবেশী কয়েকজনের জানা ছিল।
পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়, আজিজের কাছে থাকা টাকা লুটের পরিকল্পনা থেকেই গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহটি পুকুরে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাঁথিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্তে নিহতের গলায় কাটা জখম এবং পিঠ ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পুলিশ প্রথমে সেলিম হোসেন ও মনসুর আলীকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম ও মনসুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে ডাঙ্গা মাজগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, হত্যার পর আজিজের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। এর মধ্যে সেলিম ও মনসুর প্রত্যেকে ৬ হাজার টাকা এবং আকাশ ৪ হাজার টাকা নেন। গ্রেপ্তার সেলিমের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রেজাউল করিম বাঘা নামের আরেক আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
kalprakash.com/IM