সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’ মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেও এখনো এর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হয়নি। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন এই বেতন স্কেল অনুমোদনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারির কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। ফলে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া ঠিক কোন পর্যায়ে আটকে রয়েছে, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ধোঁয়াশা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। প্রাথমিক খসড়া তৈরির পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এবং আইনগত ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের রেজল্যুশন মুদ্রণ শেষে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে অপর একটি সূত্রের দাবি, পে স্কেলসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যালোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে জুডিশিয়ারি সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাতা সংক্রান্ত একটি অমীমাংসিত দাবির কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা সময় লাগছে।
অর্থ বিভাগের এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জুডিশিয়ারি সার্ভিসের সদস্যরা শতভাগ ভাতার দাবি জানিয়েছিলেন, তবে অর্থ বিভাগ তাতে সম্মতি দেয়নি। বিষয়টি পুরোপুরি সুরাহা না করেই নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন ও অনুমোদন করা হয়েছিল। ফলে সেই অমীমাংসিত জটিলতার সমাধান ছাড়া গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অবশ্য অন্য আরেকটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভেটিংসহ আনুষ্ঠানিক বিষয়গুলো সম্পন্ন হওয়ায় শেষ মুহূর্তের যাচাই শেষে যেকোনো সময় বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরের কথা ছড়িয়ে পড়ায় ওই দিন দিনভর গেজেটের অপেক্ষায় ছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেদিনও তা প্রকাশিত হয়নি। এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে স্কেল অনুমোদনের দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
ঘোষিত নতুন পে স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বা প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্ধিত এই মূল বেতন একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন যথাক্রমে ৫০, ২৫ ও ২৫ শতাংশ হারে এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪০, ৩০ ও ৩০ শতাংশ হারে কার্যকর করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নতুন স্কেলে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
kalprakash.com/IM