সাগরপথে সুন্দরবনে ঢুকে হরিণ শিকারের প্রস্তুতি নিয়েছিল একটি শিকারি দল। তবে বনরক্ষীদের নিয়মিত টহলের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। শুক্রবার ভোরে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকা থেকে হরিণ শিকারের বিপুল পরিমাণ মালা ফাঁদসহ একটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানকালে ট্রলারে থাকা ৬ থেকে ৭ জন শিকারি বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারটি সুন্দরবনের পাড়ে ভিড়িয়ে বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে সাগরের ঢেউয়ে ট্রলারটি আংশিক নিমজ্জিত হলে বনরক্ষীরা সেটি উদ্ধার করে শেলারচরে নিয়ে আসেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা ওই এলাকায় নিয়মিত টহলে ছিলেন।
টহলের সময় সন্দেহজনক ট্রলারটি নজরে এলে সেটিকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বনরক্ষীদের দেখতে পেয়েই ট্রলারে থাকা ব্যক্তিরা তীরে উঠে সুন্দরবনের গহিনে ঢুকে আত্মগোপন করে।
পরে বনরক্ষীরা ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে চারটি বস্তায় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ উদ্ধার করেন। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সময় কর্কশিট ভর্তি বরফসহ শিকারিদের আরও কিছু সরঞ্জাম সাগরে ভেসে যায় বলে জানানো হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ভোরের অভিযানে হরিণ শিকারিদের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় একটি শিকারি চক্র মালা ফাঁদ ও কর্কশিট ভর্তি বরফ নিয়ে সাগরপথে নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় যাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বনভূমি। এই বনে হরিণ শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়, বরং খাদ্যশৃঙ্খলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে হরিণ শিকারের মতো অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে এর বিরূপ প্রভাব বনের অন্যান্য বন্যপ্রাণী ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়তে পারে।
বন বিভাগের এমন অভিযান অব্যাহত রাখা এবং একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও সম্পৃক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
kalprakash.com/IM