শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ২:৪৬:৪২
শিরোনাম
মুক্তির আগেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন পানির চাপ বাড়ায় ১৬ জলকপাট খোলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই মুক্তির আগেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন পানির চাপ বাড়ায় ১৬ জলকপাট খোলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই

রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫
শেয়ার: mail
রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ৭ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের আগস্ট শেষে যেখানে রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার, চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট আমদানি ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার। মাসিক গড় আমদানি ব্যয় ৬ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরলে ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৫ দশমিক ৯৮ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই শেষে রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। আগস্টে তা বেড়ে ৩১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে ৩১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন, অক্টোবরে ৩২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন এবং নভেম্বরে ৩১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ৩০ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও মার্চে বেড়ে হয় ৩৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। এপ্রিলে ৩৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন এবং মে মাসে ৩৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার হয়।

জুনে রিজার্ভ বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। জুলাই শেষে কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারে নামলেও আগস্টে আবার বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে ভর করে বাড়ছে রিজার্ভ

সংশ্লিষ্টদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাস আয় ও রপ্তানি আয়। বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও স্থিতিশীলতা এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ডলারের দাম বাজারভিত্তিক রাখা ও তদারকির ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রবাস আয় বৃদ্ধিও ডলারের জোগান স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ই রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান উৎস বলে জানান তিনি।

রিজার্ভে ফিরেছে স্বস্তি

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের রিজার্ভ নেমে এসেছিল ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে আমদানি ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বাজারে বিপুল পরিমাণ ডলার সরবরাহ করতে হওয়ায় রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষার পদক্ষেপের ফলে ডলারের সরবরাহ বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে রিজার্ভেও।

রিজার্ভ বাড়ায় আমদানি বিল পরিশোধের সক্ষমতাও বেড়েছে। শিল্পের কাঁচামাল, জ্বালানি ও খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির পাশাপাশি বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে ডলারের জোগান নিশ্চিত করাও তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের আন্তর্জাতিক দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। তবে রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান শক্তিশালী থাকায় এই বাড়তি চাপ মোকাবিলায় কিছুটা সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

রিজার্ভ বাড়লেও অর্থনীতিতে কেন প্রশ্ন?

রিজার্ভ বৃদ্ধির খবর স্বস্তিদায়ক হলেও এর পেছনে অর্থনীতির একটি ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ এখনো দুর্বল এবং ঋণপ্রবাহ কম। উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে অনাগ্রহের কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না।

ফলে একদিকে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ছে, অন্যদিকে ডলারের ব্যবহার তুলনামূলক কম থাকায় রিজার্ভের ওপরও চাপ কম পড়ছে। অর্থাৎ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ার কারণেই রিজার্ভ বাড়ছে—বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়; অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি দুর্বল থাকাও এর একটি কারণ।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রিজার্ভ ভালো থাকায় গত দেড়-দুই বছর বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী থাকায় বাড়তি আমদানি ব্যয় ও বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দেওয়া গেছে।

তবে আমদানির চাহিদা বাড়লে রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী কয়েক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়বে।

বিনিয়োগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে শুধু রিজার্ভ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোও জরুরি।

বিনিয়োগ বাড়লে শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বাড়বে। এতে ডলারের চাহিদা বাড়বে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত এমন আমদানি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। পরে বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধ ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের সংকট তৈরি হয় এবং রিজার্ভ কমতে থাকে।

বর্তমানে সেই পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সামনে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়লে আমদানির চাহিদাও বাড়বে। তখন রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

তাই ৩৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ একদিকে অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির খবর হলেও, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বর্তমান স্থবিরতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন

বিস্তারিত কমেন্টে