শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১:৫৮:৪৯
শিরোনাম
মুক্তির আগেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন পানির চাপ বাড়ায় ১৬ জলকপাট খোলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই মুক্তির আগেই ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড রিজার্ভ বেড়েছে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে নতুন প্রশ্ন পানির চাপ বাড়ায় ১৬ জলকপাট খোলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান নবম পে-স্কেলে নতুন ছক আবারও কমল সোনার দাম চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে পুতিন বাড়ছে প্রবাসীদের অনলাইন সুবিধা তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই

তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬
শেয়ার: mail
তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উপাত্তনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি করদাতার জন্য তৈরি করা হবে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্রোফাইল। সেখানে আয়কর রিটার্নের তথ্যের পাশাপাশি ব্যাংক লেনদেন, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, সম্পদ, বিদেশ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের তথ্যও যুক্ত হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করদাতার ঘোষিত আয় ও বাস্তব ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। এআই ও ডেটা বিশ্লেষণের সাহায্যে সন্দেহজনক আর্থিক কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে উচ্চঝুঁকির করদাতাদের আলাদা তালিকায় রাখা সম্ভব হবে।

করদাতার আর্থিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন উৎসের তথ্য এক জায়গায় এনে বিশ্লেষণের জন্য আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইনকাম ট্যাক্স ডেটা ওয়্যারহাউস স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর।

এক জায়গায় আসবে আয়-ব্যয়ের তথ্য

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একজন করদাতার ব্যাংক হিসাব, জমি ও গাড়ি কেনাবেচা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারসহ বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে।

এনবিআরের উদাহরণ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বছরে ১০ লাখ টাকা আয় দেখালেও যদি একই সময়ে তাঁর ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকা জমা পড়ে কিংবা তিনি দামি গাড়ি কেনেন, তাহলে সেই অসঙ্গতি প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

একইভাবে বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের ব্যয়, কোম্পানিতে মালিকানা, আমদানি-রপ্তানি এবং উৎসে করের তথ্যও সমন্বিত করদাতা প্রোফাইলে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর ফলে একজন করদাতার ঘোষিত আয়, ব্যয়, কর পরিশোধ এবং সম্পদ অর্জনের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে।

টিআইএন না থাকলেও নজরদারিতে

শুধু ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা টিআইএনধারীরাই নয়, টিআইএন না থাকলেও করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআরের।

এ ছাড়া টিআইএন থাকার পরও যারা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদেরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যাবে।

এ জন্য টিআইএন ডেটাবেস পরিশোধন করে করদাতাদের কর্মকাণ্ড অনুযায়ী কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিয়মিত রিটার্ন দাখিল ও কর প্রদানকারীদের ‘অ্যাকটিভ ট্যাক্সপেয়ার’, রিটার্ন দাখিল করলেও করযোগ্য আয় না থাকা ব্যক্তিদের ‘রিটার্ন ফাইলার বাট নো ট্যাক্স’, টিআইএন থাকার পরও রিটার্ন না দেওয়া ব্যক্তিদের ‘নন-ফাইলার’ এবং দীর্ঘদিন কোনো কার্যক্রম নেই এমন টিআইএনকে ‘ডরম্যান্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

অন্যদিকে, টিআইএন না থাকলেও করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ‘পটেনশিয়াল ট্যাক্সপেয়ার’ হিসেবে শনাক্ত করা হবে।

বাড়াতে চায় কর-জিডিপি অনুপাত

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এনবিআরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর ফাঁকি শনাক্তের পাশাপাশি করজালের আওতা বাড়ানো এবং নিয়মিত করদাতাদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

করপোরেট পর্যায়েও কর ফাঁকি বন্ধে আলাদা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব খাতের ডিজিটালাইজেশনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

তাঁর মতে, এনবিআরের প্রস্তাবগুলো দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দুর্বল রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

সবশেষে, আয়কর ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে করদাতার আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। তবে এই ব্যবস্থার সফলতার জন্য তথ্যের নির্ভুলতা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল, কর ফাঁকি ধরবে এআই

বিস্তারিত কমেন্টে