বাংলাদেশ ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ভিদাল জানালেন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে Logo বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা, পেছনে রয়েছে যে কারণ Logo ‘মার্তিনেজের ১০ নোংরা কৌশল,’ ভয় পাচ্ছে ইংল্যান্ড Logo কুবিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান Logo সুন্দরগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত Logo নবীনদের পদচারণায় মুখরিত বেরোবি ক্যাম্পাস Logo রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুভ্রা রানী চন্দ আর নেই Logo নালিতাবাড়ীতে রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা Logo ছেলের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জেরে বগুড়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও সন্তানের পরিকল্পনা: কী গ্রহণযোগ্য, কী হারাম

ছবিঃসংগৃহীত

মানুষ মহান আল্লাহর সেরা সৃষ্টি এবং সন্তান পৃথিবীর অন্যতম উৎকৃষ্ট নিয়ামত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা নিজেদের সন্তানদের অভাবের ভয়ে হত্যা কোরো না; তাদের রিজিক আমি দিই এবং তোমাদেরও।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৩১)

ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও সন্তানের পরিকল্পনার তিনটি মৌলিক পদ্ধতি রয়েছে:

১. স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ: নারীর বা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। এটি মূলত নাজায়েজ। তবে শুধুমাত্র মায়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

২. অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ: স্বামী-স্ত্রীর প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতি না করে সাময়িকভাবে সন্তান ধারণ রোধ করা। যেমন—কনডম বা ওষুধ ব্যবহার। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রয়োজনে, সন্তান জন্মের মাঝে বিরতি প্রয়োজন হলে বা মায়ের শারীরিক দুর্বলতার কারণে জায়েজ।

৩. গর্ভপাত: মূলত হারাম। তবে যদি মহিলার জীবন বিপন্ন হয় এবং গর্ভধারণ চার মাসের কম হয়, তখন বিশেষ শর্তে বৈধ হতে পারে।

ইসলামী হাদিস ও সাহাবীদের জীবন থেকে জানা যায়, কেবল সাময়িক অসুবিধা এড়ানোর জন্য ‘আজল’ বা মিলনের সময় সন্তান জন্মরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এটি কখনোই জন্মনিয়ন্ত্রণকে প্রমোট করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।

ফলে, ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: আল্লাহর সৃষ্টিকে সম্মান করা, অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ পরিহার করা এবং শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ও বিশেষ প্রয়োজনের ভিত্তিতে সীমিত ব্যবস্থাই গ্রহণযোগ্য।

সন্তান গ্রহণের সময়ের ক্ষেত্রে কিছু বছর বিরতি রাখাও জায়েজ, যদি মা শারীরিকভাবে দুর্বল থাকে বা নতুন সন্তানের লালনপালনে অসুবিধা হয়। তবে এটি কোনো সামাজিক বা প্রমোটিভ উদ্দেশ্যে করা যাবে না।

উপসংহার: জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হারাম নয়, তবে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ীই হতে হবে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিদাল জানালেন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে

ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও সন্তানের পরিকল্পনা: কী গ্রহণযোগ্য, কী হারাম

প্রকাশিত: ১২:৫১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মানুষ মহান আল্লাহর সেরা সৃষ্টি এবং সন্তান পৃথিবীর অন্যতম উৎকৃষ্ট নিয়ামত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা নিজেদের সন্তানদের অভাবের ভয়ে হত্যা কোরো না; তাদের রিজিক আমি দিই এবং তোমাদেরও।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৩১)

ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও সন্তানের পরিকল্পনার তিনটি মৌলিক পদ্ধতি রয়েছে:

১. স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ: নারীর বা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। এটি মূলত নাজায়েজ। তবে শুধুমাত্র মায়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

২. অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ: স্বামী-স্ত্রীর প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতি না করে সাময়িকভাবে সন্তান ধারণ রোধ করা। যেমন—কনডম বা ওষুধ ব্যবহার। এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রয়োজনে, সন্তান জন্মের মাঝে বিরতি প্রয়োজন হলে বা মায়ের শারীরিক দুর্বলতার কারণে জায়েজ।

৩. গর্ভপাত: মূলত হারাম। তবে যদি মহিলার জীবন বিপন্ন হয় এবং গর্ভধারণ চার মাসের কম হয়, তখন বিশেষ শর্তে বৈধ হতে পারে।

ইসলামী হাদিস ও সাহাবীদের জীবন থেকে জানা যায়, কেবল সাময়িক অসুবিধা এড়ানোর জন্য ‘আজল’ বা মিলনের সময় সন্তান জন্মরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এটি কখনোই জন্মনিয়ন্ত্রণকে প্রমোট করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।

ফলে, ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: আল্লাহর সৃষ্টিকে সম্মান করা, অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ পরিহার করা এবং শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ও বিশেষ প্রয়োজনের ভিত্তিতে সীমিত ব্যবস্থাই গ্রহণযোগ্য।

সন্তান গ্রহণের সময়ের ক্ষেত্রে কিছু বছর বিরতি রাখাও জায়েজ, যদি মা শারীরিকভাবে দুর্বল থাকে বা নতুন সন্তানের লালনপালনে অসুবিধা হয়। তবে এটি কোনো সামাজিক বা প্রমোটিভ উদ্দেশ্যে করা যাবে না।

উপসংহার: জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হারাম নয়, তবে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ীই হতে হবে।

kalprakash.com/SS