নবজাতকের মৃত্যু ও ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির শারীরিক ক্ষতির অভিযোগ ওঠার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাগেরহাটের চিতলমারীর হাবিবা ক্লিনিক অ্যান্ড বারিশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্লিনিক প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছাব্বির আহম্মেদ রূপম আনীত সব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে ক্লিনিক পরিচালক জানান, গত ২৭ জুলাই লাভলী ঘরামী নামের এক প্রসূতি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁদের ক্লিনিকে ভর্তি হন। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর একটি শিশুর জন্ম হয়। তবে নবজাতকটির মুখের তালুতে জন্মগত জটিল ত্রুটি থাকায় জন্মের পর থেকেই খাবার গ্রহণে সমস্যা হচ্ছিল। পরবর্তীতে শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরিভিত্তিতে গোপালগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সাত দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকার পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
এদিকে প্রসূতি লাভলী ঘরামীর জরায়ু ও মূত্রনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এবং অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোতে সিজার করার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন ছাব্বির আহম্মেদ। তিনি দাবি করেন, ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে একাধিক শক্তিশালী জেনারেটর রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় মোবাইলের আলো ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্লিনিকের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এবং অনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবির বাইরে সংশ্লিষ্ট রোগী ও তাঁর পরিবারের কোনো বক্তব্য কিংবা এ সংক্রান্ত চিকিৎসাপত্রের নিরপেক্ষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
kalprakash.com/IM