শরতের শুরুতেই ভোরের ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ। কুয়াশার কারণে সকালে সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন। দিনের প্রখর রোদ আর ভোরের ঠাণ্ডার এই তারতম্যের কারণে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ। গত এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন যেন জানান দিচ্ছে আগাম শীতের আগমনী বার্তা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলার গ্রাম থেকে শহরের সড়কগুলো ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। কুয়াশার ঘনত্ব এত বেশি ছিল যে কয়েক হাত দূরের বস্তুও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো দেখা দিলে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রংপুরের গংগাচড়ার চর ইসলির কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে জমিতে কাজে যেতে সাহস পাচ্ছি না।’ লালমনিরহাটের চর রাজপুরের গৃহবধূ রাবেয়া খাতুন জানান, ‘একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে শেষ রাতে ও ভোরে ঘন কুয়াশা। এই আবহাওয়ার কারণে আমাদের পরিবারের প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের গলেহা কান্তমনি এলাকার বাসিন্দা আইবুল ইসলাম জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে এর আগে এমন ঘন কুয়াশা তেমন একটা দেখা যায়নি। পঞ্চগড় শহরের অটোরিকশাচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, সকালে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়েও পথ দেখা যাচ্ছিল না, ফলে খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারীর চরের বাসিন্দা জেলে হোসেন জানান, ভোরে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে দেখেন পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা। এবার তীব্র গরমের পর তীব্র শীত আসবে বলে ধারণা তাঁর।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আর ১৫ দিন পর থেকেই হালকা শীত অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে সবাইকে, বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি জানান, শরৎকালের শুরুতে মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ায় এমন প্রভাব পড়ছে। এর পাশাপাশি আকাশে দীর্ঘসময় মেঘের অবস্থান এবং হঠাৎ মেঘ সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়াও কুয়াশা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
আবহাওয়ার এমন বৈরিতায় উত্তরাঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর ভিড়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে শিশুরা প্রচণ্ড জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার পাশাপাশি অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
kalprakash.com/IM