জমির নামজারির (মিউটেশন) সময় জমির বাস্তব শ্রেণি সরাসরি যাচাই করে তা সরকারি রেকর্ডে হালনাগাদ করার কার্যকর ব্যবস্থা বিদ্যমান ‘ই-মিউটেশন’ সিস্টেমে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, জমির সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারণ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদেকুর রহমান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিদ্যমান ভূমি ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান একটি দুর্বলতা হলো জমির রেকর্ডীয় শ্রেণি নিয়মিতভাবে হালনাগাদ না হওয়া। প্রাকৃতিক কারণ কিংবা মানুষের বাস্তব প্রয়োজনে অনেক সময় কৃষিজমি বা জলাশয়সহ বিভিন্ন জমির শ্রেণি পরিবর্তিত হয়ে বসতবাড়ি বা বাণিজ্যিক জমিতে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু সেই পরিবর্তিত শ্রেণি সরকারি খতিয়ান বা রেকর্ডে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এর ফলে ভূমি রেজিস্ট্রেশন, হস্তান্তর ও উন্নয়ন কর নির্ধারণের সময় জমির প্রকৃত ও যথাযথ মূল্য নিরূপণে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে নিয়মিতভাবে জমির বাস্তব শ্রেণি পরিবর্তনের তথ্য রেকর্ডীয় শ্রেণিতে হালনাগাদ করার স্বয়ংক্রিয় কোনো ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে ব্যবহৃত ই-মিউটেশন সফটওয়্যারেও নামজারির সময়ে জমির রেকর্ডীয় শ্রেণি হালনাগাদের কোনো অপশন যুক্ত ছিল না।
এ পরিস্থিতিতে ভূমি মন্ত্রণালয় কঠোর নির্দেশনা দিয়ে জানিয়েছে, কোনো নাগরিক জমি নামজারির আবেদন করলে তা মঞ্জুরের সময়েই সরেজমিনে জমির বাস্তব শ্রেণি যাচাই করতে হবে। এরপর সেই বাস্তব শ্রেণিকে রেকর্ডীয় শ্রেণি হিসেবে চূড়ান্ত নামজারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিস্টেমে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার মডিউল বা ফিচার চালু করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, ই-মিউটেশন সিস্টেমে এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে জমির প্রকৃত ব্যবহার সরকারি নথিপত্রে প্রতিফলিত হবে, যা ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায়কে আরও নিখুঁত ও গতিশীল করবে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
kalprakash.com/IM